শীতের আগে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে নতুন করে ৩১টি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ব্রিটিশ সরকার এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে রাশিয়ার ‘এলএনজি শ্যাডো ফ্লিট’ বা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজ, ক্রেমলিনের অপতথ্য প্রচার নেটওয়ার্ক এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও শিশুদের মতাদর্শগতভাবে প্রভাবিত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেপ্টেম্বরে রাশিয়া ইউক্রেনে ৩ হাজার ১০০টির বেশি জেটচালিত ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মাধ্যমে আগস্টে স্থাপিত যুদ্ধকালীন রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে মস্কো।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিকদের ‘বেআইনি আটক, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের’ সঙ্গে জড়িত আটজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইউক্রেনীয় শিশুদের ‘মতাদর্শগতভাবে প্রভাবিত করা ও সামরিকীকরণের’ সঙ্গে জড়িত আরও সাতজনের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ যেসব ইউক্রেনীয় শিশুকে জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রেও এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন।
ব্রিটিশ সরকারের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী লর্ড উড অব অ্যানফিল্ড বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার অর্থের উৎস এবং ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং এ অবস্থান থেকে দেশটি সরে আসবে না।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, নতুন পদক্ষেপগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ ‘রাষ্ট্রীয় আগ্রাসনের’ জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার যুক্তরাজ্যের দৃঢ় অবস্থানকে তুলে ধরে।
একই সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয় বহনে সহায়তা করা রাশিয়ার রাজস্বের উৎসগুলো সীমিত করা এবং ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষাও এসব নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে লন্ডন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত চায় না যুক্তরাজ্য। তবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটিশ সমর্থন ‘অটুট’ থাকবে।