মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান চলবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করে নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক।

বুধবার মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে এটি অব্যাহত রাখার জন্য প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় স্থানীয় জনগণ রাস্তায় নেমে এসে প্রশাসকের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অনুরোধ জানান।

এর আগে গতকালের উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষে আহত সাংবাদিক সিফাতের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসায় যান ডিএনসিসির প্রশাসক। সেখানে তিনি আহত সাংবাদিকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রশাসক। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিএনসিসি সব সময় সাংবাদিকদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে এবং এটি কখনো বন্ধ হবে না। তবে উচ্ছেদ অভিযান ও হকারদের বিষয়ে কারও সুপরামর্শ থাকলে তা বিবেচনা করা হবে।

ফুটপাত পুনরায় দখল করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। প্রশাসক বলেন, জনগণের চলাচলের ফুটপাত জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। কেউ আবার ফুটপাত দখল করে বসলে আরও শক্ত অবস্থানে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং তাদের সম্মতি নিয়েই বিকল্প স্থানে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য ২০৪টি রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মাধ্যমে তাদের আয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে আবার আগের জায়গায় অবৈধভাবে দোকান বসাতে চাইছেন।

তিনি বলেন, হকাররা ব্যবসা করবেন, তবে ফুটপাত দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে নয়। তাদের জন্য নির্ধারিত জায়গাতেই ব্যবসা করতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম ও আইন অনুযায়ী নাগরিকসেবা নিশ্চিত এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন যেকোনো এলাকায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। নাগরিকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে যেকোনো সময় অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে এ বিষয়ে কারও যৌক্তিক ও সঠিক পরামর্শ থাকলে তা গ্রহণ করা হবে।

ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, তার দলের নেতাকর্মীরা যদি ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজি করতেন, তাহলে তারা কেন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবেন? তিনি দাবি করেন, তার নেতাকর্মীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। যারা দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কথা বলছেন, তারাই বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, জনগণের স্বার্থ ও নৈতিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি উচ্ছেদ করা জায়গায় গাছ লাগিয়ে রাজধানীকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।