দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে না ফেরার দেশে যুক্তরাজ্যের খ্যাতিমান টিভি ব্যক্তি টেলিভিশন উপস্থাপক, সম্প্রচারক ও সমাজসেবক এস্থার র্যান্টজেন। ৮৬ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তার পরিবার এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। ব্রিটিশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত র্যান্টজেন ১৯৭৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত বিবিসির বহুল আলোচিত অনুষ্ঠান ‘দ্যাটস লাইফ!’ উপস্থাপনা করেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শুধু বিনোদনই নয়, বরং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ও তুলে ধরেন।
তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের ফলে যুক্তরাজ্যে শিশুদের জন্য গাড়িতে সিটবেল্ট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং খেলার মাঠে নিরাপদ মেঝে ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে বলে মনে করা হয়। শিশুদের সুরক্ষায় ১৯৮৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘চাইল্ডলাইন’, যা নির্যাতনের শিকার শিশুদের জন্য ২৪ ঘণ্টার বিনামূল্যের সহায়তা সেবা প্রদান করে। পরে ২০১২ সালে একাকী ও প্রবীণ মানুষের সহায়তায় চালু করেন ‘দ্য সিলভার লাইন’ হেল্পলাইন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শত শত ইহুদি শিশুকে নাৎসি নিপীড়ন থেকে রক্ষা করা নিকোলাস উইন্টনের অসাধারণ মানবিক কর্মকাণ্ডও তার অনুষ্ঠানেই প্রথম বৃহৎ পরিসরে জনসমক্ষে আসে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী নতুন করে আলোচনায় আসেন উইন্টন। জীবনের শেষ সময়ে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছামৃত্যু (Assisted Dying) বৈধ করার পক্ষে প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন র্যান্টজেন। সুইজারল্যান্ডে গিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। সামাজিক পরিবর্তন ও মানবকল্যাণে নিজের দীর্ঘ কাজ সম্পর্কে একবার তিনি বলেছিলেন, ‘সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা আমার কাছে এক ধরনের নেশার মতো।’