পরকালে মানুষকে তার আমল সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। মানুষ পৃথিবীতে যা কিছু বলেছে ও করেছে, সবই সেদিন তার সামনে তুলে ধরা হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে। আর যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে, সে তাও দেখতে পাবে।’ (সুরা জিলজাল ৭-৮)
এই আয়াত মানুষের জন্য গভীর সতর্কবার্তা। ছোট বলে কোনো কাজকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। একটি ভালো কথা কারও মনকে আনন্দিত করতে পারে। আবার একটি কটু কথা কাউকে দীর্ঘদিন কষ্ট দিতে পারে। একটি অন্যায় কাজ মানুষের অধিকার নষ্ট করতে পারে। আবার সামান্য একটি ভালো কাজও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে।
মানুষের মুখের কথারও হিসাব হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।’ (সহিহ বুখারি)
তাই কথা বলার আগে ভাবা জরুরি। মিথ্যা, গিবত, অপবাদ, অশ্লীলতা ও মানুষের মনে আঘাত দেয় এমন কথা থেকে বিরত থাকা উচিত। একই সঙ্গে সত্য ও কল্যাণের কথা বলা উচিত। কারণ মানুষের মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিটি কথারই হিসাব দিতে হবে।
মহান আল্লাহ মানুষের প্রকাশ্য ও গোপন সব কাজ সম্পর্কে অবগত। তিনি বলেন, ‘তোমরা যা কিছু করো সে ব্যাপারে তোমার রব গাফেল নন।’ (সুরা হুদ ১২৩)
কেয়ামতের দিন মানুষের আমলনামা তার সামনে উপস্থিত করা হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কিতাব (আমলনামা) উপস্থিত করা হবে। তখন তুমি অপরাধীদের দেখবে, তাতে যা আছে তার কারণে তারা ভীত থাকবে। তারা বলবে, হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! এ কেমন কিতাব! এ তো ছোট-বড় কোনো কিছুই বাদ দেয়নি, সবই হিসাব করে রেখেছে।’ (সুরা কাহফ ৪৯)
তাই একজন মুমিনের উচিত, প্রতিদিন নিজের কথা ও কাজের হিসাব নেওয়া। কোনো ভুল হলে তওবা করা, মানুষের অধিকার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ভালো কাজের সুযোগ পেলে তা করা। দুনিয়ার জীবনে নিজের আমলের হিসাব নেওয়া আখেরাতের জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত হওয়ার অন্যতম উপায়।
লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার