মহান আল্লাহ প্রিয় বান্দাদের জন্য জান্নাত সৃষ্টি করেছেন। জান্নাতকে পরিপূর্ণ করেছেন নিজ রহমত দিয়ে। তিনি মানুষকে জান্নাতের প্রতি আগ্রহী করেছেন। জান্নাতের নাম রেখেছেন দারুস সালাম তথা শান্তির আবাস। জান্নাতের নেয়ামত কখনো শেষ হবে না, সৌন্দর্য কখনো বিলীন হবে না। জান্নাত তার প্রত্যাশীদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং যারা তা কামনা করে, তাদের জন্য সুশোভিত হয়ে রয়েছে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন সব নেয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শোনেনি এবং কোনো মানুষের কল্পনাতেও কখনো উদিত হয়নি।’ (সহিহ বুখারি ৩২৪৪)
জান্নাত এমন আবাস, যার সৌন্দর্য উজ্জ্বল, প্রাঙ্গণ পবিত্র ও নির্মল এবং নির্মাণশৈলী অত্যন্ত মহিমান্বিত। এর নির্মাণে একটি ইট সোনার, আরেকটি ইট রুপার। এর গাঁথুনির মসলা সুগন্ধি মিশকের। এর নুড়িপাথর মণিমুক্তা দিয়ে তৈরি। এর মাটি জাফরানের।
যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে অফুরান নেয়ামত ভোগ করবে, কখনো দুর্দশাগ্রস্ত হবে না। সে সেখানে চিরকাল থাকবে, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। তার পোশাক পুরনো হবে না এবং তার যৌবন কখনো নিঃশেষ হবে না।
সর্বপ্রথম আমাদের নবীজি (সা.) জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়বেন। জান্নাতের প্রহরী তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, ‘আপনি কে?’ তিনি বলবেন, ‘আমি মুহাম্মদ।’ তখন প্রহরী বলবেন, ‘আপনার ব্যাপারেই আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আপনার আগে যেন আর কারও জন্য দরজা না খুলি।’ (সহিহ মুসলিম ১৯৭)
জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। প্রতিটি দরজার দুই পাল্লার মধ্যবর্তী দূরত্ব মক্কা ও হিজর শহরের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান অথবা মক্কা ও বসরার মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। (সহিহ বুখারি ৪৭১২)
জান্নাতে সর্বপ্রথম যে দল প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। তাদের পর যারা প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দীপ্তিমান হবে।
জান্নাতিরা প্রস্রাব-পায়খানা করবে না, নাকের ময়লা পরিষ্কার করবে না এবং থুতুও ফেলবে না। তাদের চিরুনি হবে সোনার। তাদের শরীরের ঘাম থেকে মিশকের সুগন্ধ ছড়াবে। তাদের ধূপদানি হবে সুগন্ধি কাঠের। তাদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ থাকবে না, পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ থাকবে না। তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তাদের আকৃতি হবে পিতা আদম (আ.)-এর মতো। তার উচ্চতা ছিল ষাট হাত। (সহিহ বুখারি ৩৩২৭)
জান্নাতের অধিবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে দেহের অবাঞ্ছিত লোমমুক্ত, দাড়িহীন, শুভ্রবর্ণ, কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট এবং চোখে সুরমা লাগানো অবস্থায়। তাদের বয়স হবে তেত্রিশ বছর। তাদের মুখমণ্ডল সৌন্দর্য, জ্যোতি, উজ্জ্বলতা ও দীপ্তিতে আলোকিত থাকবে। তাদের চেহারায় নেয়ামতের সজীবতা ও আনন্দের ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
তাদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হবে, ‘তোমাদের জন্য রয়েছে এই নেয়ামত, তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। তোমরা চিরকাল সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা চিরকাল যুবক থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না। তোমরা চিরকাল নেয়ামত ভোগ করবে, কখনো দুর্দশাগ্রস্ত হবে না।’ (সহিহ মুসলিম ২৮৩৭)
জান্নাতের কোনো নারী যদি পৃথিবীর অধিবাসীদের দিকে উঁকি দিয়ে তাকায়, তাহলে তার সৌন্দর্য ও জ্যোতিতে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান আলোকিত হয়ে যাবে এবং তার সুগন্ধিতে পুরো জায়গা সুবাসিত হয়ে উঠবে। তার মাথার ওড়না দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। (সহিহ বুখারি ২৭৯৬)
২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, মসজিদে নববিতে প্রদত্ত জুমার খুতবা। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ করেছেন মুফতি আতিকুর রহমান