সুইজারল্যান্ডে তীব্র তাপপ্রবাহে দ্রুত গলছে হিমবাহের বরফ

ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহের কারণে চলতি বছর সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোর বরফ দ্রুত গলছে। ফলে হিমবাহগুলো ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। সুইজারল্যান্ডে চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বরফ গলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক ও সুইস কমিশন ফর ক্রায়োস্ফিয়ার অবজারভেশনের যৌথ বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালে হিমবাহগুলোর গড় পুরুত্ব ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ মিটার পর্যন্ত কমেছে। চলতি বছর কতগুলো ছোট হিমবাহ পুরোপুরি বিলীন হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিক হিসাব এখনো তৈরি হয়নি। গত পাঁচ বছরে মোট হিমবাহের বরফের ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান বলছে, শীতে অপেক্ষাকৃত কম তুষারপাত এবং গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপমাত্রাকে এর কারণ হিসেবে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হিমবাহ আলেৎশ চলতি বছর সবচেয়ে বেশি বরফ হারিয়েছে। আর গ্লেসিয়ার দ্য সঁ ফ্লেরঁ হিমবাহের গড় পুরুত্ব ৪ মিটারের বেশি কমেছে। কয়েক বছর আগেও এমন ঘটনা কল্পনা করা কঠিন ছিল বলে জানান ইটিএইচ জুরিখের হিমবিজ্ঞানী ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ম্যাথিয়াস হুস। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেও যেসব জায়গা কয়েকশ মিটার পুরু বরফের নিচে ছিল, সেখানে এখন দাঁড়ালে মনে হয় চাঁদের পৃষ্ঠে আছি। এখন সেখানে পাথুরে মরুভূমি। উত্তপ্ত পাথরের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পুরনো বরফের কিছু খণ্ড গলে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ গলে যাচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। হিমবাহের ভেতরেও দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। বরফের নিচ দিয়ে প্রবাহিত পানি ভেতরে গর্ত ও গহ্বর তৈরি করছে। পরে এসব গহ্বরের ছাদ ধসে পড়ছে। এতে হিমবাহ ওপর থেকে শুধু গলে যাওয়ার বদলে ভেতর থেকেই ভেঙে পড়ছে এবং আরও দ্রুত ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের বরফে ঢাকা এলাকাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ম্যাথিয়াস হুস আরও বলেন, এখন প্রায় প্রতিবছরই চরম পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এটি সত্যিই উদ্বেগজনক। তবে ২০২২ সালের মতো রেকর্ড হারে এখনো বরফ গলছে না। ওই বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ধুলোর মেঘ তুষারের ওপর জমে যাওয়ায় বরফ গলার হার ছিল নজিরবিহীন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এমন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছি, যেখানে বরফ গলে হিমবাহগুলো চোখের সামনে মিলিয়ে যাচ্ছে।’ গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি হারিয়েছে। দেশটির পরিবারগুলো এক বছরে যে পরিমাণ খাবার পানি ব্যবহার করে, তার তুলনায় এটি চার গুণের বেশি।