সিইসিকে হটাতে একজোট বিরোধীরা

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২২ এএম

ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। গত বুধবার নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোটের নেতাদের বৈঠকের পর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি জানান, আজ ২ অক্টোবর শুরু হয়ে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই গণতন্ত্র বাঁচাও অভিযান। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরকারের হাতের পুতুল বলে সম্বোধন করেন কংগ্রেস সভাপতি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ৬ অক্টোবর নির্বাচন সদন অভিমুখী যাত্রা করবেন জোটের সব দলের সংসদ সদস্যরা। এছাড়াও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে ইন্ডিয়া জোটের।

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া জোটের এই বৈঠকে অংশ নেন ২০টি রাজনৈতিক দলের নেতারা। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে খাড়গে বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হলে গণতন্ত্রের সলিল সমাধি ঘটে। শাসকের হাতের পুতুল জ্ঞানেশ কুমারের জন্য দেশের গণতন্ত্র বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। খাড়গের তথ্যমতে, চলতি মাসে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে জোটের পক্ষ থেকে পাঁচটি বড় জনসভার আয়োজন করা হবে। সেখানে- কীভাবে ভোট চুরি হচ্ছে, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে কীভাবে গণতন্ত্রের সর্বনাশ করা হচ্ছে, তা জনসাধারণকে বোঝানো হবে। কংগ্রেস সভাপতি আরও জানানÑ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য সব এনজিও, ছাত্রসমাজ এবং যারা ভারতীয় সংবিধান ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তাদের প্রত্যেককে অনুরোধ করা হবে।

ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে মল্লিকার্জুন খাড়গে মোট ৬টি দাবি জানিয়েছেন। তা হলো ভবিষ্যতে ভোট এসআইআর পূর্ববর্তী ভোটার তালিকা অনুযায়ী করতে হবে।  এসআইআরে কাদের নাম বাদ গেছে, কাদের নাম ঢোকানো হয়েছে এবং কী কী সংশোধন হয়েছে, সব দাখিল করতে হবে। প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে পর্যাপ্ত সময়ের নোটিস দিতে হবে, কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে, তার স্পষ্ট কারণ দেখাতে হবে এবং আবেদনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রশাসনিক ভুলবশতায় নাম বাদ দেওয়ার হাত থেকে প্রকৃত ভোটারকে রক্ষা করতে হবে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পরিবর্তে ব্যালট প্রথার ভোটে ফিরে আসতে হবে। এমন এক কমিশন গঠন করতে হবে, যা বিশ্বাসযোগ্য ও নিরপেক্ষ বলে সবাই মনে করবে। এ সময় খাড়গে বলেন, ‘ভোট চুরির অভিযোগ রাহুল গান্ধী অনেক আগে থেকেই করছিলেন। এখন বোঝা যাচ্ছে, সংকট কত গভীর। ভোট চুরির কারসাজি এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে।’

এদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) সারা দেশে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ শুক্রবার গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুম্বাইয়ে আইন অমান্যের ডাক দিয়েছে সিজেপি নেতারা। সিইসি’র অপসারণের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দাবি তুলেছে দলটি। আসন্ন সবগুলো নির্বাচন স্থগিত, এসআইআর কার্যক্রম বন্ধ করে ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকায় ফেরত যাওয়া এবং স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে এসআইআরের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার শর্ত দিয়েছে সিজেপি। আর এই তদন্ত সংক্রান্ত নথি সুপ্রিম কোর্টের জিম্মায় রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেছে দলটি। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে তারা।

গত সপ্তাহে ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভারতজুড়ে সিইসি হটাও গুঞ্জনের শুরু। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেল ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি। আর এতেই একজোট বিজেপিবিরোধী প্রায় সব শক্তি। যদিও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ওই প্রতিবেদনকে একপাক্ষিক ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। স্বচ্ছতা রক্ষা ও আইন মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দ্য হিন্দু-কে জানিয়েছে ইসি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত