যেভাবে মিষ্টির উত্থান

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মিরপুরে কোনো প্রভাব ছিল না সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে পদত্যাগ করা সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মিরপুরে তার অবস্থান শক্ত হতে থাকে। সেই প্রভাব আরও বাড়ে সংসদ সদস্য হওয়ার পর। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর-লুটপাট চালানো হয়। এই ঘটনায়ও মিষ্টির নাম আসে। হামলা চালিয়ে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’র সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই সমিতির সঙ্গে মিষ্টির পুরনা সম্পর্ক সামনে আসে।

ঘটনার রাতে যুবদল নেতা মিরাজ এক ফেসবুক পোস্টে জানান, ‘মুখোশ পরে হামলা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি থানায় জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে ভাঙচুরের সময় সেখানে সড়কে পুলিশের গাড়িও দাঁড়ানো ছিল। এ ঘটনায় বেশ তোলপাড় শুরু হয়। সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। সংবাদ মাধ্যমে মিষ্টির নাম এলেও তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মিষ্টি মূলত রাজনীতিতে সুবিধাজনক অবস্থানে আসার নেপথ্যে রয়েছে তার ভাই ও স্বামীর ত্যাগ।  

মিষ্টির রাজনৈতিক হাতেখড়ি ছাত্রদলের মাধ্যমে। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। পরে ওই কলেজের ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হন। স্নাতক শেষ করে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দীর্ঘদিন মিরপুরকেন্দ্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন। রাড্ডার ঘটনার পর ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য মিষ্টি বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর ছোট বোন। পিন্টু বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত নেতা ছিলেন এবং ঢাকা-৮ আসনের (লালবাগ) সাবেক সংসদ সদস্য। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছিল। ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে তার মৃত্যু হয়।

মিষ্টির স্বামী সাইদুর রহমান নিউটনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন। ২০০২ সালের ১০ মে ধানমন্ডির অর্কিড প্লাজার সামনে গুলিতে নিহত হন নিউটন। তার মৃত্যুর পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে তার প্রভাব বাড়লেও এমপি হওয়ার পর তা আরও বেড়ে যায়। মিষ্টি চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি মনোনিত সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেটভুক্ত হন। ৩ মে তিনি শপথ নেন। ১ অক্টোবর তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’র সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৬ সালে কমিশনার থাকাকালে মিষ্টি ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। ২০০৪ সালে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি সমিতির নামে বরাদ্দ চেয়ে করা একটি আবেদনে সভাপতি হিসেবে তার নাম ও স্বাক্ষর ছিল। তবে বর্তমানে ওই সমিতির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন মিষ্টি। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।