সার্বিয়াকে হারিয়ে ক্লপের জার্মানির প্রথম জয় 

৪৭ দিন, ৩টি ম্যাচ আর ৪৪ জন খেলোয়াড়কে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখার পর অবশেষে জার্মানির ডাগআউটে স্বস্তির হাসি হাসলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। ডাই মানশফটদের কোচ হিসেবে প্রথম তিন ম্যাচে জয়হীন থাকার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা জার্মানির নতুন বস শেষ পর্যন্ত দেখা পেলেন কাঙ্ক্ষিত সেই প্রথম জয়ের। বড় নামদের বাইরে রেখে তারুণ্যের ওপর ভরসা রেখেই সার্বিয়াকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সফল হলো ক্লপের নতুন মিশন।

ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে দেখা গেছে সম্পূর্ণ এক নতুন রূপের জার্মানি। অভিজ্ঞদের কিছুটা বিশ্রামে রেখে তারুণ্যনির্ভর একাদশ সাজিয়েছিলেন ক্লপ। গোলোকিপার জোনাস উরবিগ ও উইঙ্গার ডেরি শেরহান্ট এদিন জার্মানির জার্সিতে নিজেদের অভিষেক রাঙিয়েছেন। 

ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের ওপর লাগাতার চাপ তৈরি করে বর্তমান কোচিং স্টাফের আস্থার প্রতিদান দেন তরুণরা। ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসার পর ফিরতি বল জালে জড়িয়ে মিউনিখ দর্শকদের উল্লাসে ভাসান বায়ার্ন মিউনিখের তরুণ মিডফিল্ডার টম বিশফ। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই নিজের প্রথম গোল পেলেন এই উদীয়মান তারকা।

বিরতির পর খেলার গতি আরও বাড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা। ৬১ মিনিটে ম্যাক্সিমিলিয়ান মিটলস্টেটের ক্রসে নিখুঁত ফার্স্ট টাচে ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান লিভারপুলের তারকা ফ্লোরিয়ান ভির্টসের দুর্দান্ত এক শটে (২-০)। 

সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ ভাগে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে জার্মানির ১,০০০তম পুরুষ আন্তর্জাতিক ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েন সেল্টিকের মিডফিল্ডার মিকা বাউর। সার্বিয়ান শিবিরকে পাত্তাই না দিয়ে পুরো ম্যাচে ক্লপের ট্রেডমার্ক হাই-প্রেস ফুটবল ও কাউন্টার-প্রেসিংয়ের নান্দনিক রূপ দেখাল এই তারুণ্যনির্ভর জার্মান দল।

ম্যাচ শেষে নিজেদের পারফরম্যান্সে দারুণ সন্তোষ প্রকাশ করে জার্মান পাবলিক ব্রডকাস্টার জেডডিএফ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লপ জানান, ‘আজ আমি সত্যিই খুব খুশি। রক্ষণ সামলানো থেকে শুরু করে বল পায়ে রাখা, সব বিভাগেই আমরা দুর্দান্ত ছিলাম। আমরা সহজভাবে অত্যন্ত চমৎকার ফুটবল খেলেছি।…আমাদের কাউন্টার-প্রেসিং ছিল অসাধারণ। যখন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে বল পুনরুদ্ধার করি, তখন যেকোনো ঝুঁকি নেওয়ার স্বাধীনতা আমাদের থাকে।’ 

পরবর্তীতে নিজের আর্কাইভের জন্য এই ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখার কথা জানিয়ে ক্লপ আরও যোগ করেন, ‘এটি আমার আর্কাইভে জমা হচ্ছে। আমরা এখন এটি নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করব। আমরা এভাবেই খেলতে চাই।’ 

এদিকে তারুণ্যের ঝলক দেখানো এই ম্যাচে দলের হয়ে দারুণ পারফর্ম করা মিডফিল্ডার ভির্টজ ম্যাচ শেষে বলেন, ‘দলের স্পিরিট ফিরিয়ে আনতে এবং আমরা যে ভালো ফুটবলার ও একটি শক্তিশালী ফুটবল জাতি, সেটি আবারও প্রমাণ করতে জয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি নিশ্চিতভাবেই সঠিক দিকের একটি বড় পদক্ষেপ।’ 

এছাড়া নিজের অভিষেক ও গোল করার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে টম বিশফ বলেন, ‘এটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। স্টেডিয়াম যেন আগুনে পুড়ছিল। আমি চিৎকার করে আমার সব আনন্দ প্রকাশ করেছি এবং ভীষণ আনন্দিত।’ 

সার্বিয়াকে হারানোর স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে এবার নতুন মিশনের দিকে তাকাতে হচ্ছে ক্লপের দলকে। আগামী রবিবার থেসালোনিকিতে গ্রিসের বিপক্ষে মাঠে নামবে জার্মানি যাদের বিপক্ষে নিজেদের এর আগেই ম্যাচেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত হার দেখেছিল ডাই মানশফটরা।