তালতলীতে নারীকে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে টাকা লুটের অভিযোগ

বরগুনার তালতলীতে এক নারীকে একা পেয়ে ঘরে ঢুকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড় অংকুজানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যারয় তিন সদস্যের একটি দল ওই নারীর বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়িতে ওই নারী একাই ছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাকে জিম্মি করে প্রথমে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। পরে ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণ কোথায় রাখা আছে,তা জানতে তাকে চাপ দেয় একপর্যায়ে ওই নারীকে ভয় দেখানোর পাশাপাশি শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে ঘরে থাকা টাকা স্বর্ণালংকারের কথা জানালে দুর্বৃত্তরা টাকা ও সোনা লুট করে নেয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা রোকন নামে এক মোটরসাইকেল চালককে আটক করে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে মূলহোতা রবিউল নামে একজন টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর স্বামী মাসুদ জানান, মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য আমার ভাইয়ের কাছ থেকে ২ লাখ ৪০ লাখ টাকা এনে বাড়িতে রেখেছিলেন। বাড়িতে ওই টাকা থাকার খবর পেয়েই দুর্বৃত্তরা বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করে টাকা ও চেইন ও কানের দুল নিয়ে যায় ।

স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য ফাতিমা বেগম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ওই নারীর শরীরে আগুনের ছ্যাঁকার চিহ্ন দেখতে পান। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এবিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন,ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। একজনকে আটক করে নিয়ে এসে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।