ভারতকে ‘পূর্ণ সম্মান’ দিয়ে যা বললেন ব্রাজিল কোচ

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল আছে ৬ষ্ঠ অবস্থানে আর ভারতে আছে ১৩৮তম-তে। তবে র‌্যাঙ্কিংয়ের এমন আকাশ-পাতাল ব্যবধান থাকলেও সেটিকে পাত্তা না দিয়ে ভারতকে ‘পূর্ণ সম্মান’ দেখিয়ে আসন্ন ম্যাচটি একটি চমৎকার ফুটবল লড়াই হিসেবে দেখছেন এই অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ। 

আগামীকাল শনিবার কলকাতার মাঠে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাগতিকদের নিয়ে এমন সম্মানসুলভ মন্তব্য করেন আনচেলত্তি। সাম্প্রতিক সময়ে পানামার বিপক্ষে ১-১ ড্র করা ভারতীয় দলের প্রশংসা করে আনচেলত্তি বলেন, ‘ভারতের দলের মানের প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। তারা পানামার বিপক্ষে একটি ভালো ড্র খেলেছে। আমাদের প্রতিপক্ষের প্রতি পূর্ণ সম্মান রয়েছে।’ 

২০২৬ সালের মে মাসে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর দলটিকে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন। আলিসন, এডারসন ও ভেভারটনের মতো পুরোনো গোলরক্ষকদের বাইরে রেখে হিউগো সউজা এবং একদল তরুণের ওপর আস্থা রেখেছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ায় দুটি ম্যাচ খেলে ভারতে আসা এই নতুন স্কোয়াড নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ‘সব নতুন সদস্যদের সাথে কাজ করাটা আনন্দের। শুধু তাদের নয়, পুরো স্কোয়াডের জন্যই। এটি একটি দুর্দান্ত মুহূর্ত, সবাইকে একত্র করা, সিনার্জি তৈরি করা এবং স্কোয়াডের শক্তি অনুভব করা দারুণ ব্যাপার।’ 

ক্লাব ফুটবল ও জাতীয় দলের কোচিংয়ের বড় পার্থক্যের কথা তুলে ধরে সেলেসাওদের কোচ জানান, জাতীয় দলের ক্ষেত্রে সঠিক খেলোয়াড় বেছে নেওয়াটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। নিজের শান্ত স্বভাব ও দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমার চরিত্রের অংশ। আমি সাধারণত ফুটবলে ধৈর্যশীল থাকি এবং একজন কোচ হিসেবে আমি মনে করি ধৈর্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ।’

আসন্ন ম্যাচটিকে কোনো ‘টেস্ট’ বা কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখতে নারাজ এই কোচ। ‘স্কোয়াড এবং সমস্ত খেলোয়াড়দের জন্য এটি কোনো পরীক্ষা বা নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ নয়। আমরা এখনও ম্যাচের জন্য চূড়ান্ত দল ঠিক করছি। এটি কোনো পরীক্ষা নয়, এটি একটি সুযোগ।’

২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতে না পারা সেলেসাওদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর আনচেলত্তি। আধুনিক ফুটবলের পরিবর্তন ও দলীয় বোঝাপড়ার গুরুত্বের কথা স্বীকার করে তিনি জানান, ব্রাজিল দলের মূল পরিচয় লুকিয়ে আছে তাদের খেলার ধরনে। দলের মূল দর্শন সম্পর্কে জোর দিয়ে বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি, মান এবং ফুটবল খেলার আনন্দ। গুণগত মান আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ। আমি চাই খেলোয়াড়েরা নিজেদের উপভোগ করুক, প্রতিটি ম্যাচে আনন্দের সাথে খেলুক। আপনি আনন্দ নিয়েই খেলতে চাইবেন।’

সঙ্গে কলকাতার দর্শকরা একটি আকর্ষণীয় ম্যাচ উপভোগ করবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি যোগ করেন, ‘আমি আশা করি এটি একটি বিনোদনমূলক খেলা হবে। আমরা এখানে আসতে পেরে এবং আমাদের মান দেখাতে পেরে আনন্দিত।’

আগামীকাল ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। চলতি ফিফা উইন্ডোতে এটিই শেষ ম্যাচ ব্রাজিলের।