কোচের প্রতিশ্রুতির ফাঁদ: সামনে আনলেন রোনালদোর বন্ধু

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও কোচ হোর্হে জেসুসের দ্বন্দ্ব এখন বেশ জটলা পাকানো অবস্থায় পরিণত হয়েছে। নরওয়ে ম্যাচের পর বেঞ্চে বসিয়ে রাখার পর থেকেই যার শুরু। সেখান থেকে অনুশীলন ছেড়ে হোটেলে এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকেও চলে যাওয়া। কী ঘটছে আসলে পর্দার আড়ালে?

এই আকস্মিক প্রস্থানের আসল রহস্য ভেদ করতে গিয়ে রোনালদোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাংবাদিক এদু আগুইরে জানিয়েছেন বিস্ফোরক সব তথ্য। কোচের ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির নাটকীয় পরিবর্তন এবং মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সংবাদ সম্মেলনে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করার কারণেই মূলত রোনালদোর মনে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি। সঙ্গে নিজেকে প্রতারণার শিকার ভেবেছেন সিআরসেভেন! জনপ্রিয় স্প্যানিশ টিভি শো ‘এল চিরিঙগুইতো’-তে এসে এসব তথ্য দেন রোনালদোর বন্ধু।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে, যেটিতে ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল পর্তুগাল। ওই ম্যাচে রোনালদোকে খেলানোর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে টানা ত্রিশ মিনিট সাইডলাইনে ওয়ার্ম-আপ বা অনুশীলন করানোর পরও পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চেই বসিয়ে রাখা হয়। কোচের এমন সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হন এই মহাতারকা এবং তিনি দলের বাকি অনুশীলনেও আর অংশ নেননি। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এরপর মাঠে নামে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পর্তুগাল কোচ জেসুস, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো প্রোয়েঙ্কা এক দীর্ঘ বৈঠকে বসেন। সেই গোপন বৈঠকে কোচ জেসুস তার ভুলের কথা স্বীকার করে রোনালদোর কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চান এবং কথা দেন যে তিনি সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করবেন। কোচের এই আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলেই মনে করেছিলেন রোনালদো।

কিন্তু পরের দিন বুধবার চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে এসে কোচ জেসুস তার পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সম্পূর্ণ সরে আসেন। তিনি প্রকাশ্যে কোনো দুঃখ প্রকাশ তো দূরে থাক, বরং অত্যন্ত কঠোর কণ্ঠে জানিয়ে দেন যে, দলের প্রয়োজন না হলে তিনি ভবিষ্যতেও রোনালদোকে মাঠে নামাবেন না এবং কে খেলবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার একমাত্র তারই রয়েছে।

এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে স্প্যানিশ টিভি শো’তে এদু আগুইরে তার বক্তব্যে বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো এজন্যই ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। কারণ তার মনে হয়েছে সে প্রতারণার শিকার। এ বিষয়ে বলার মতো আর কিছুই নেই, বিষয়টি খুবই সহজ।’ 

কোচের দ্বিমুখী আচরণের বিষয়ে আগুইরে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আপনার কোচ ব্যক্তিগতভাবে আপনার কাছে এসে বললেন: শোনুন, বিষয়টি এমন ছিল, আপনি আমাকে বোঝেন, ঠিক আছে, আমি পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলাতে পারিনি, আমরা সবাই একই নৌকায় আছি, আমি দুঃখিত। যদি কোনো প্রেস কনফারেন্স হয়, আমি সবকিছু পরিষ্কার করে দেব, ক্ষমা চাইব, চিন্তা করবেন না, সব ঠিক হয়ে যাবে। তারপর ১২ ঘণ্টা পরে আপনি (কোচ) প্রেস কনফারেন্সে গেলেন এবং ক্রিশ্চিয়ানোকে নিরাশ করলেন... আরও খারাপ ব্যাপার হলো, আপনি শক্তপোক্ত ভাব দেখালেন, দাবি করলেন যে আপনিই দায়িত্বে আছেন এবং ক্রিশ্চিয়ানো কেবল বাকি অনেকের মতো একজন সাধারণ খেলোয়াড়… এজন্যই আমি এটাকে বলছি: প্রতারণা।’ 

কোচের এই দ্বিমুখী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ডেনমার্কের ম্যাচের আগে কোপেনহেগেন থেকেই ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে রোনালদো পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে মত তার বন্ধুর।

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোলের মালিক ও দেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা এই মহাতারকার এমন আকস্মিক প্রস্থান নিশ্চিত করে ইনস্টাগ্রামে একটি বিবৃতি দেন রোনালদো। সেখানে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে লেখেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পর আমি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সময়মতো আমি সব পর্তুগিজকে জাতীয় দল থেকে সরে যাওয়ার সত্যিটা জানাব। এই দলের প্রতি আমি সব সময়ই নিবেদিত ছিলাম।’

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এই ক্রান্তিলগ্নে কোচের সঙ্গে এই শীতল লড়াই এবং হুট করে ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত