মৌলভীবাজারের সবুজ চা বাগান আর পাহাড়ি আঁকাবাঁকা, উঁচুনিচু পথ। সেই পথেই ১০ ও ১৫ কিলোমিটার দৌড়ে অংশ নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চার শতাধিক পেশাদার ও সৌখিন রানার।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোরে জেলা সদরের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়াম থেকে শুরু হয় ‘কেন্ট এলিট স্পোর্টিং সোসাইটি মৌলভীবাজার ১৫ কিলোমিটার রান-২০২৬’ ম্যারাথন। দূরত্ব ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবার দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজন করা হয়।
কেন্ট এলিট স্পোর্টিং সোসাইটি ইউকের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার আয়োজক পাওয়ার পালস এরিনা। সহযোগিতায় ছিল মৌলভীবাজার অ্যাথলেটিকস অ্যান্ড কারাতে একাডেমি। ১০ ও ১৫ কিলোমিটার—দুটি বিভাগে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।
ভোর সাড়ে ৫টায় এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়াম থেকে দৌড় শুরু করেন প্রতিযোগীরা। শহরের বিভিন্ন সড়ক পেরিয়ে চা বাগান ও পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে দৌড়ে তাঁরা আবার অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে ফিরে আসেন।
ঢাকা থেকে আসা রানার প্রিয়াঙ্কা রায় বলেন, ‘এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমাদের জীবনে মানসিক শান্তির জায়গা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ ধরনের আয়োজন মানসিক প্রশান্তি দেয়। প্রকৃতির মধ্যে দৌড়ানোর অভিজ্ঞতাও উপভোগ করার মতো।’
সিলেটের রানার মাহবূবা আহমেদ মারিয়া ১০ কিলোমিটার দৌড়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অসুস্থ থাকায় ভালো সময় করতে পারিনি। তবে আলহামদুলিল্লাহ, ভালোভাবে দৌড় শেষ করতে পেরেছি। এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের।’
শ্রীমঙ্গলের রানার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘নিজেদের এলাকায় ম্যারাথন হচ্ছে, তাই অংশ নিতে এসেছি। এটি আমার তৃতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ। আগের আয়োজনটি শীতকালে হয়েছিল, এবার গরমের মধ্যে দৌড়ানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে। ম্যারাথনের মাধ্যমে নিজের দুর্বলতা, স্ট্যামিনা ও আরও কতটা পরিশ্রম করা প্রয়োজন, তা বোঝা যায়। পাশাপাশি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও হয়।’
১৫ কিলোমিটার দৌড় শেষ করা রানার আবু সাঈদ মোহাম্মদ রাহি বলেন, ‘মৌলভীবাজারের এবারের দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আমি খুবই আনন্দিত। ১৫ কিলোমিটার দৌড় শেষ করতে আমার সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট। ভবিষ্যতে আরও কম সময়ে এ দূরত্ব শেষ করতে চাই।’
রানার হামিদা আক্তার জেবা বলেন, ‘আগে পুরুষদের তুলনায় নারীরা আউটডোর বা দৌড়ের মতো কার্যক্রমে কম অংশ নিতেন। এখন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। ২০১৯ সালে মৌলভীবাজার হাফ ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার সময় নারী রানার খুব কম দেখেছিলাম। এবার অনেক নারী রানারের উপস্থিতি দেখেছি, যা অত্যন্ত সন্তোষজনক।’
রানার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়াম থেকে দৌড় শুরু করে শহরের বিভিন্ন আঁকাবাঁকা সড়ক ও চা বাগান পেরিয়ে আবার অডিটোরিয়ামে ফিরেছি। সফলভাবে ১৫ কিলোমিটার শেষ করে খুবই খুশি। সুস্থ থাকার জন্য মানুষ দৌড়ায়। দৌড়াতে ভালো লাগে এবং এটি শরীরকে সতেজ রাখে।’
কেন্ট এলিট স্পোর্টিং সোসাইটি ইউকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সাদী মাহমুদ বলেন, ‘এবারের আয়োজন অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মৌলভীবাজারে আমরা প্রতি বছর এ আয়োজন করব। ইনশাআল্লাহ, প্রতি বছরই আমাদের সংগঠন মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে থাকবে।’
পাওয়ার পালস এরিনার পরিচালক মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘এবার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ১০ ও ১৫ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলো। কেন্ট এলিট স্পোর্টিং সোসাইটি ইউকের সহযোগিতায় প্রতিবছর এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’