মধ্যপ্রাচ্যে রওনা ৯ হাজার মার্কিন সেনার

মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠাচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষ ধরনের উভচর হামলা বা অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট ইউনিটও রয়েছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা সামনে রয়েছে। এই স্ট্রাইক গ্রুপে প্রায় নাবিক ও মেরিন মিলিয়ে ৯ হাজার সেনা আছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে এই সেনা মোতায়েনের মধ্য দিয়ে ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের যুদ্ধের পরিস্থিতি কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তারই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মিডটার্ম নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও বাড়ানো একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে এখনো বিবেচনায় রয়েছে। অথচ যুদ্ধ শুরুর সময় তিনি বলেছিলেন, এটি মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও)। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে ট্যাংকারটিতে ‘অজ্ঞাত একটি বস্তু’ আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। ইউকেএমটিও আরও জানিয়েছে, জাহাজটির নাবিকরা নিরাপদে আছেন। তবে হামলায় জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। ট্যাংকারটি কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, সে বিষয়েও সংস্থাটি কিছু জানায়নি।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এখন যে জাহাজগুলোর বহর যাচ্ছে, সেগুলোতে সম্মিলিতভাবে ৭ হাজারের বেশি নাবিক এবং ২ হাজার মেরিন রয়েছে। এই বহরের মধ্যে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। মার্কিন আইল্যান্ডের সঙ্গে রয়েছে দুটি উভচর অবতরণকারী জাহাজ।

এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এর ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একসঙ্গে তিনটি বিমানবাহী রণতরী থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে এরই মধ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক সদস্যদের সঙ্গে এই নতুন মোতায়েন যোগ হলে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ২০ হাজারের বেশি নাবিক ও মেরিন এবং শত শত সামরিক বিমানে দাঁড়াবে।

এর আগে এপ্রিলে মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে তিনটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করেছিল মার্কিন নৌবাহিনী। ২০০৩ সালের পর সেটিই ছিল প্রথমবার। বর্তমানে এই অঞ্চলে রয়েছে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বিমানবাহী রণতরী। এর পাশাপাশি রয়েছে ইউএসএস বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ।

সাধারণত ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকে। কিন্তু এবার এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের জায়গা নিতে।

গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেন। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনের পর ইরানে বোমা হামলা আরও বাড়ানো ‘সম্ভব।’

তাকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার কৌশল সম্পর্কে তিনি এখন আর বিস্তারিত কিছু বলতে পারবেন না। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সেটা বলতে পারি না। কারণ দেখুন, আপনি তো জানতে চাইছেন, কোথায় বোমা ফেলবেন?’

গত সোমবার নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘যে বিষয়গুলো এক বছর আগে আমি অনুমোদন করতাম না, আজও সেগুলো অনুমোদন করব না।’