মাদারীপুরে বাসের ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে তিন উপজেলার লোকজনের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও অন্তত ১০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল।
শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি, ডাসার ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা ব্রিজ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকালে বরিশালে যাওয়ার জন্য ডাসার উপজেলার বনগ্রাম এলাকার সেলিম ঘরামীর ছেলে এমারত ঘরামী স্থানীয় একটি লোকাল বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান। এ সময় বাসের ভাড়া বেশি চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাসশ্রমিকদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সবুজ, আকাশ ফকিরসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই ঘটনার জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভূরঘাটা ব্রিজ এলাকায় কালকিনি ও ডাসার উপজেলার লোকজনের সঙ্গে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার লোকজনের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলে স্থানীয়রা জানান।
এ সময় ভূরঘাটা বাজারের অন্তত ১০টি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেতুর উভয় পাশে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী ও স্থানীয় পরিবহন ব্যবহারকারীরা।
খবর পেয়ে কালকিনি, ডাসার ও গৌরনদী থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, ‘বাসের ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’