পূর্বঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক পটিয়া হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ, রোগীদের খাবারের মান, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে তিনি পটিয়া হাসপাতালে উপস্থিত হন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়েও খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতাল থেকে নিয়মিত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে কি না, এক্স-রে ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা হাসপাতাল থেকেই পাওয়া যাচ্ছে কি না এসব বিষয়ে সরাসরি জানতে চান। এসময় রোগীরা তাদের অভিযোগের কথা মন্ত্রীকে জানান।
হাসপাতালে রোগীদের জন্য রান্না করা খাবারের মানও পরীক্ষা করেন মন্ত্রী। তিনি নিজে রান্না করা খাবার খেয়ে এর মান যাচাই করেন এবং রোগীদের খাবার সরবরাহের বিষয়ে খোঁজ নেন।
পরিদর্শনকালে পটিয়া হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। তিনি পটিয়া হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা এবং পাঁচরিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পটিয়া হাসপাতালের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া হাসপাতালের তিনটি কেবিনের টয়লেট দ্রুত প্রস্তুত করার জন্য চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারকে ফোন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসনে চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের জন্য ৯ জন চিকিৎসক, ৪ জন নার্স ও ১ জন মিডওয়াইফ, একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট, একজন রেডিওগ্রাফার, একজন বাবুর্চি, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ঔষধ এবং ভ্যাক্সিন, রেবিক্স ভ্যাক্সিন ৫০টি, রেবিক্স আইজি ৫০টি, ডায়ারিয়া স্যালাইন ১৫০টি ও এন্টিভেনম ২০টি ব্যবস্থা করেন।
আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে মন্ত্রী হাসপাতালের বাস্তব চিত্র সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ সেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আবু তৈয়ব।