খেলার মাত্র ৮ ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনায় যাচ্ছে বুর্কিনো ফাসো

বাংলাদেশ সময় রবিবার সকাল ৬টায় বুয়েন্স আয়ার্সের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে বুর্কিনা ফাসোর। তবে ম্যাচটি শুরুর মাত্র ৮ ঘণ্টা আগে দেশটিতে পৌঁছাতে যাচ্ছে আফ্রিকান দলটি। ফ্লাইট জটিলতা এবং নানা লজিস্টিক সংকটের কারণে শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয়তায় ম্যাচটি নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলা।
 
আফ্রিকান কাপ অব নেশন্স খেলতে কদিন ধরেই মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা অবস্থান করছিল বুর্কিনো ফাসো দল। সেখান থেকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। তবে বিমান চালনাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর ফলে দলটির পুরো ভ্রমণ সূচিতে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়। বুর্কিনা ফাসো ফুটবল ফেডারেশন (এফবিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ফ্লাইটটি আকস্মিকভাবে বাতিল হওয়ায় চরম বিপাকে পড়ে প্রতিনিধিদলটি।

আফ্রিকান গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আয়োজকদের অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছিল। গুঞ্জন ছিল, আফ্রিকান ফুটবলাররা বিনামূল্যে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পরিবর্তে চার্টার্ড ফ্লাইটের দাবিতে অনড় ছিলেন।

পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে হয় যে, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সরকারি ও কূটনৈতিক পর্যায়ে গড়ায়। বুর্কিনার ক্রীড়ামন্ত্রী, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি এবং মরক্কোয় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূতকে এই সংকট সমাধানে ময়দানে নামতে হয়। এমনকি দল শেষ মুহূর্তে যেতে না পারলে বিকল্প হিসেবে দেশটির অনূর্ধ্ব-২৩ দলকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
কারণ, ম্যাচটি শেষ মুহূর্তে বাতিল হলে বুর্কিনা ফাসো ফুটবল ফেডারেশনকে ফিফার শৃঙ্খলা কোড অনুযায়ী ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হতো। শুধু তাই নয়, ম্যাচ আয়োজক প্রতিষ্ঠানকে স্টেডিয়াম ভাড়া বাবদ ক্ষতিপূরণ, বিক্রি হওয়া টিকিট এবং টেলিভিশন স্বত্বের অর্থও ফেরত দিতে হতো। মূলত এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত চরম টানাপোড়েনের মধ্যেও ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় তারা।
ফিফা উইন্ডোতে দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে লাউতারো-এনজোরা
 
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং ম্যাচ আয়োজক প্রতিষ্ঠান 'ইউরোডাটা স্পোর্ট'-এর বিরুদ্ধে এই আয়োজনে চরম অপেশাদারিত্বের অভিযোগ উঠেছে। ফিফা প্রীতি ম্যাচের এই আয়োজনে এএফএ কেবল থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত খরচ বহন করলেও কোনো অংশগ্রহণ ফি বা লভ্যাংশ দেয় না। খরচা কমানোর এমন প্রবণতার কারণে মূলত দুর্বল বা সীমিত বাজেটের আফ্রিকান দলগুলোকে বেছে নেওয়া হয় বলে সমালোচনা হচ্ছে আর্জেন্টিনায়।

শেষ পর্যন্ত পর্তুগিজ কোম্পানি হাইফ্লাইয়ের-এর একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে বুর্কিনো ফার্সো দল কাসাব্লাঙ্কা ছেড়ে বুয়েন্স আয়ার্সের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। তবে কিছু খেলোয়াড় এই বিরোধের জেরে সফর থেকে বিরত থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
এখন স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে বুয়েন্স আয়ার্সে পৌঁছাবে দলটি। এর ঠিক ৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে মাঠে নামতে হবে তাদের। ম্যাচ শেষে সামান্য সময়ও না কাটিয়ে রবিবার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানী ওয়াগাদুপুর উদ্দেশে বিমান ধরার কথা রয়েছে দলটির। অর্থাৎ, আর্জেন্তিনায় ২৪ ঘণ্টারও কম সময় অবস্থান করবে তারা।

আফ্রিকান দলের সঙ্গে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে তোপের মুখে এএফএ

বর্তমান ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে ব্রাজিল, উরুগুয়ে বা ইকুয়েডরের মতো দলগুলোর পেশাদারিত্বের সাথে আর্জেন্টিনার তুলনা টেনে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কঠোর সমালোচনা করেছে। যেমন উরুগুয়ে কোচ দিয়েগো ফোরলানের অধীনে এশিয়ার মাটিতে গিয়ে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে। অথচ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে দুর্বল দলগুলোর সাথে এমন হযবরল অবস্থার মধ্যে প্রীতি ম্যাচ খেলছে, যাকে সংবাদমাধ্যমে 'জাঙ্ক গেম' (আবর্জনা ম্যাচ) বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে পরে আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে যেসব প্রীতি ম্যাচ খেলেছে, তার বেশিরভাগই ছিল আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে। সাম্প্রতিক পাঁচটি হোম ম্যাচের মধ্যে চারটিই আফ্রিকান দেশের সাথে—মৌরিতানিয়া, জাম্বিয়া, বুর্কিনা ফাসো এবং বেনিন (ব্যতিক্রম শুধু বলিভিয়া)। লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের প্রতিপক্ষও আরেক আফ্রিকান দল- বেনিন। 
 
এই দলগুলোকে বেছে নেওয়ার মূল কারণ হলো অর্থনৈতিক সাশ্রয়। এএফএ (আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) বা ম্যাচ আয়োজকরা এই দলগুলোর যাতায়াত ও থাকার খরচ দিলেও, কোনো ম্যাচ ফি বা টিকিট বিক্রির লভ্যাংশ দেয় না। কম খরচে ম্যাচ আয়োজন করার মানসিকতাই এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।