শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চারটি পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে— নবনিযুক্ত উপাচার্যের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি আন্দোলনের ১২তম দিনে ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা নিরসনে তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়। এটি স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে পুনরায় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘তোমার ভিসি, আমার ভিসি-সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ এবং ‘এক দফা, এক দাবি-সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ নানা স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে ‘চুয়েটের অচলাবস্থা কাটাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা’, ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’ ও ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’ লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড শোভা পায়।
মিছিল শেষে সমাবেশে ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, ‘সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে আমরা আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের নীরবতায় আমরা ক্ষুব্ধ। আন্দোলনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি; তিনি যেন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে আমাদের ক্লাসে ফেরার পরিবেশ তৈরি করে দেন।’
শুক্রবার গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নবনিযুক্ত উপাচার্য দাবি করেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের চারটি পরীক্ষা আন্দোলনকারীদের কারণে আটকে আছে। তবে এই বক্তব্যকে ক্যাম্পাসের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ দাবি করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ওই শিক্ষাবর্ষের প্রায় সব বিভাগের পরীক্ষাই ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কেবল একটিমাত্র বিভাগের পরীক্ষা শুরু হওয়া বাকি ছিল।
চলতি বছর ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ২১ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই বিক্ষোভ মিছিল করেন কয়েকশ শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর সকালে উপাচার্যের পদ থেকে অধ্যাপক আবু সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।