বদলে গেছে মনিরামপুরের চিরচেনা যানজট!

মনিরামপুর পৌরশহরের চিরচেনা যানজটের চিত্র বদলে গেছে আনসার সদস্যদের বিরামহীন প্রচেষ্টায়। রাজারহাট-চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের মনিরামপুর পৌরশহরের রাজগঞ্জ মোড়ে প্রায় ৭০০ মিটার রাস্তা সরু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পড়তেন পথচারী ও চালকেরা। তবে গত এক মাস ধরে আনসার সদস্যদের সক্রিয় দায়িত্ব পালনের ফলে দৃশ্যপট আমূল পাল্টে গেছে।

মনিরামপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ এবং 'ক' শ্রেণির এই পৌরসভার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক বাসিন্দাকে এতদিন নিয়মিত তীব্র যানজটের শিকার হতে হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজারহাট-চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়কটি দুই লেনে উন্নীত করা হলেও, রাজগঞ্জ মোড়ের ৭০০ মিটার অংশ প্রশস্ত করা সম্ভব হয়নি। পৌরশহরে বাইপাস সড়ক না থাকায় গণপরিবহন, পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো বেশ দায় হয়ে উঠত। বিশেষ করে সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার হাটের দিনে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হতো।

গত এক যুগ ধরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শহরের যানজট নিরসন নিয়ে আলোচনা হলেও কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। অবশেষে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক নেতা এবং সর্বস্তরের নাগরিকদের সদিচ্ছায় ১৬ জন আনসার সদস্যের নিরলস পরিশ্রমে পৌরশহরের বিভিন্ন পয়েন্ট যানজটমুক্ত হয়েছে।

দায়িত্ব পালনকালে চালকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালমন্দ এবং হুমকি-ধমকি হাসিমুখে সামলে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আনসার ভিডিপির গ্রুপ লিডার মো. জোবায়ের হোসেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন জানান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের সর্বাত্মক সমর্থনের কারণেই যানজটমুক্ত করার কাজটিতে সফলতা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।