রূপগঞ্জে ১৫ বছর পর নৌকা বাইচ

একসময় বর্ষা এলেই গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে মুখর হয়ে উঠত নদী-খাল-বিল। ঢাক-ঢোল আর বৈঠার ছন্দে জমে উঠত নৌকা বাইচের আসর। তবে সময়ের সঙ্গে জলাশয় ভরাট ও বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চনে আবারও নৌকা বাইচের আয়োজন করেছে কাঞ্চন পৌর বিএনপি। এ আয়োজনকে ঘিরে দিঘুলিয়া, কেরাবো, কলাতলী, বান্টি, কাঞ্চনসহ আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

সকাল থেকেই রূপগঞ্জের কাঞ্চনে নৌকা বাইচ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের নিয়ে নদীর পাড়ে আসতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে। একপর্যায়ে নেমে আসে লাখো মানুষের ঢল। কেউ নদীর তীরে অবস্থান নেন, আবার কেউ নৌকায় করে নদীতে ভাসমান অবস্থায় নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। এ আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় মিলিয়ে ২৫টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় আকর্ষণীয় পুরস্কার হিসেবে ছিল মোটরসাইকেল, ফ্রিজ ও টেলিভিশন। শিমুলিয়া ঘাট থেকে কাঞ্চন বাজার ঘাট পর্যন্ত এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে কলাতলী সোহেল রানা এক্সপ্রেস, দ্বিতীয় হয় কালাদি সাথী এক্সপ্রেস এবং তৃতীয় হয় কেরাবো সবার বন্ধু। বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু।

দর্শনার্থীরা জানায়, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দূর-দূরান্ত থেকে তারা নৌকা বাইচ দেখতে এসেছেন। এমন আয়োজন দেখে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করার দাবি জানান তারা।

তারা আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে মুক্ত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেন, পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। পানির চলাচল ঠিক রেখে প্রতিবছর এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ আয়োজন করা হবে। আগামী বছর স্টেজে বসে না থেকে নিজেও অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

নৌকা বাইচকে ঘিরে শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নদীর দুই পাড়ে মানুষের ভিড় আর নৌকা-ট্রলারে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে শীতলক্ষ্যা ফিরে পায় তার পুরোনো রূপ। এমন আয়োজন প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হবে-এটাই দর্শকদের প্রত্যাশা।