দীর্ঘ ২০ বছর পর ফিলিস্তিনে নির্বাচন

টানা দুই বছর ধরে ইসরায়েলের চালানো একের পর এক বিমান হামলা ও আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপের নগরীতে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি করলেও, এখনো উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি বর্বরতা অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘ এই যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণহানি হয়েছে; যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তবুও এই ধ্বংসস্তূপেই নিজেদের ভবিষ্যৎ খুঁজে ফিরছেন ফিলিস্তিনিরা। দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিলিস্তিন। তবে ইসরায়েলের যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞে বিপর্যস্ত গাজার বাসিন্দাদের কাছে এ নির্বাচন শুধু নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার বিষয় নয়, বরং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার একটি আশাও। কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান প্রত্যাশা।

আগামী ২৮ নভেম্বর ফিলিস্তিনের আইনসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ২০০৬ সালের পর এটিই হবে দেশটির প্রথম আইনসভা নির্বাচন। ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজায় ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কমিশনের হিসাবে, গাজায় প্রায় ১২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ ভোট দেওয়ার যোগ্য। তবে, ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নানা লজিস্টিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ছাড়া, ইসরায়েল নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিলে স্থানীয়ভাবে এসব উপকরণ তৈরির পরিকল্পনাও রেখেছে কমিশন। গাজার রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়াদ আল-কারার মতে, যুদ্ধের পর মানুষের রাজনৈতিক প্রত্যাশা বদলে গেছে। তারা এমন নেতৃত্ব চান, যারা গাজার পুনর্গঠন, অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে কাজ করবেন। মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও জীবিকা ফিরিয়ে আনাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

আসন্ন এই নির্বাচনে অনেকের মতো প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ২৪ বছর বয়সী আহমাদ মোহসেন। গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি দোকানে প্রিপেইড ইন্টারনেট কার্ড বিক্রি করেন তিনি। যুদ্ধ শুরুর আগে নার্সিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে হাসপাতালে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন আহমাদ। যুদ্ধের প্রথম দিকে আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেন। তবে, কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় পরে অন্য কাজ খুঁজতে বাধ্য হন। এখন তিনি একটি স্থায়ী চাকরি ও সম্মানজনক বেতন চান, যাতে নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারেন। একই সঙ্গে তার প্রত্যাশা, দেশে নিরাপত্তা ফিরে আসবে। আহমাদের মতো গাজার অনেক মানুষেরই এখন প্রধান চিন্তা জীবিকা ও নিরাপত্তা। সেখানে বেকারত্বের হার প্রায় ৮০ শতাংশ। ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে উপত্যকার অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।