ইয়েমেনে বড় অভিযানে প্রস্তুত সৌদি

ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান উত্তেজনা তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই দুই ফ্রন্টে সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ- হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেলবাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে আছে। এতে বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। গতকাল শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রিয়াদ। সম্ভাব্য এ অভিযানে ইয়েমেনের এক লাখের বেশি সেনা অংশ নিতে পারেন। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ৪৭৪টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ১ হাজার ৫৪০ জন হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি। তবে তার এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ অভিযান শুরু হতে পারে। অভিযানে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ করতে উপকূলীয় এলাকায় অগ্রসর হওয়া কিংবা একাধিক দিক থেকে একযোগে হামলা চালানোর মতো বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।  রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা ও কৌশলগত অবস্থান পুনরুদ্ধার করা সৌদি অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাদের মতে, বাব আল-মান্দেবের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারের বড় সুযোগ পাবে গোষ্ঠীটি।

পশ্চিমা কূটনীতিক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায় না সৌদি আরব। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‌্যাটনি মনে করেন, সৌদি অভিযান ২০১৫ সালের বৃহৎ সামরিক অভিযানের তুলনায় সীমিত পরিসরে হতে পারে। পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী সৌদি আরবের প্রস্তাবিত অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো, গত মাসে হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় অর্জিত সাফল্য উল্টে দেওয়া।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব দুটি বিকল্প বিবেচনা করছে। প্রথমটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়ে উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা। দ্বিতীয়টি ইয়েমেনের একাধিক রণাঙ্গনে সমন্বিত আক্রমণ চালানো। এ পরিকল্পনায় আল-বাইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ গভর্নরেট অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের পরিধির ওপর নির্ভর করে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা এতে অংশ নিতে পারেন। স্থল অভিযানের নেতৃত্বে থাকবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। তাদের সহায়তা দেবে সৌদি বিমানবাহিনী।

সংশ্লিষ্ট ছয় ব্যক্তির দেওয়া ধারণা অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে, আবার যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও তা শুরু হতে পারে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকার, হুতি গোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তিরা বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের অভিযানকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ সৌদি আরবকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে এসব মিত্রদেশ সরাসরি যুদ্ধের অংশ হবে বলে মনে করা হচ্ছে না।

ইরান-ইয়েমেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠক : ইরানযুদ্ধ এবং ইয়েমেনে সৌদি-হুতি সংঘাত নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে বৈঠক করেছেন। ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকটি ছিল রুদ্ধদ্বার। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। তিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সিআইএ প্রধান জন র‌্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।