স্বাস্থ্য সচেতনতায় ১০ বিদ্যালয়ের ১০০ কিশোরী এক মঞ্চে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার ১০টি উচ্চবিদ্যালয়ের ১০০ জন ছাত্রী অংশ নেয়।

রবিবার (৪ অক্টোবর) ইনার হুইল ক্লাব অব শ্রীমঙ্গলের আয়োজনে শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি এবং নারীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে প্রত্যেক ছাত্রীকে সনদপত্র, কলম ও নোটবুক দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার পারভীন। কর্মশালার উদ্বোধন করেন শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইনার হুইল ক্লাব অব শ্রীমঙ্গলের প্রাক্তন সভাপতি রিতা দত্ত, রহিমা বেগম, আরতী বালা পাল ও দিল আফরোজ বেগম। এ ছাড়া ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানিয়া রায়, আইএসও সোমা দেব চৌধুরী ও সম্পাদক (এডিটর) রুবানা হলি উপস্থিত ছিলেন।

ইনার হুইল ক্লাব অব শ্রীমঙ্গলের ২০২৬–২৭ বর্ষের সভাপতি ইন্দিরা আচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সহসভাপতি শামসুন্নাহার খান বৃষ্টি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মো. কামাল উদ্দিন ও ক্লাবের সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ডা. পুষ্পিতা খাস্তগীর।

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন সাইকোলজিস্ট আরমিন বেগম এবং শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রোকশানা ওয়াহিদ রাহী।

ডা. পুষ্পিতা খাস্তগীর বলেন, ‘একজন মানুষ কৈশোরে যা শেখে, তা সারা জীবন মনে থাকে। এখনো আমরা পুরোপুরি নিরাপদ নই। তাই নিজেকেই নিজেকে রক্ষা করতে হবে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। জীবনে যে কষ্টগুলো আসে, সেগুলোর কারণে থেমে গেলে চলবে না। সব সময় নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ইনার হুইল ক্লাব এ ধরনের কর্মসূচি আরও আয়োজন করবে এবং পুরো উপজেলায় তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। সংগঠনটি একটি সামাজিক সংগঠন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আয়োজকেরা বলেন, কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোই এ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য। এ ধরনের আয়োজন কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় সঠিক পরামর্শ নিতে সহায়তা করবে।