পদ্ম পাতার বড় রহস্য, পানিতে না ভেজার ক্ষমতা। পানি পড়ামাত্র মুক্তোর মতো গোল দানা বেঁধে গড়িয়ে যায়। এর কারণ হচ্ছে, পাতার ওপরের স্তরে লিপিডের ঘন ও জলরোধী আস্তরণ। পাতার উপরিভাগ মসৃণ মনে হলেও অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায় সেখানে অসংখ্য উঁচু-নিচু ন্যানো-গঠন রয়েছে। এই রুক্ষ গঠন ও মোমের প্রলেপের কারণে, পাতার সঙ্গে পানির ফোঁটার আকর্ষণ বা সংযোগস্থল কম হয়। ফলে পানির ফোঁটা পাতার গায়ে না ছড়িয়ে, অণুগুলোর অভ্যন্তরীণ টানে গোল গোল হয়। পানির ফোঁটা গড়িয়ে যাওয়ার সময় পাতার ময়লাগুলো পরিষ্কার হয়ে পদ্ম পাতাকে পচন ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এটি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণে অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের তুলনায় বেশি সক্ষম। বিজ্ঞানীরা পদ্ম পাতার প্রাকৃতিক রহস্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নানা রকম পানি ও ময়লা প্রতিরোধী গ্যাজেট, রং এবং কাপড় তৈরি করছেন। পদ্ম ফুল সাধারণত গোলাপি ও সাদা রঙের। তবে বিভিন্ন প্রজাতিতে লাল, নীল, হলুদ ও বেগুনি রঙের পদ্ম রয়েছে। আমেরিকান প্রজাতিসহ কিছু বিশেষ জাতের পদ্ম হলুদ রঙের। পদ্ম ফুল কমল, পঙ্কজ, উৎপল, মৃণাল, অরবিন্দ, সরোজ এবং নলিনী নামেও পরিচিত। দেশের হাওর, বিলে প্রচুর পরিমাণে পদ্ম ফুল রয়েছে। সাধারণত বর্ষার শেষভাগ থেকে শরৎকাল পর্যন্ত এসব বিলে হাজার হাজার পদ্ম ফুল ফোটে। মিসর ও নীল নদ উপত্যকার মিষ্টিপানির জলাশয়ে যার আদি উৎস।