ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে পেছনে ফেলেছেন। তবে সরাসরি জয় নিশ্চিত করার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি তিনি। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার বা রান-অফ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। খবর বিবিসির।
ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার জন্য জাইর বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
রবিবারের (৪ অক্টোবর) ভোটে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ছিল খুবই কম। নির্বাচনী প্রচারের সময় বেশিরভাগ সময় লুলা সামান্য এগিয়ে ছিলেন। তবে প্রায় সব ভোট গণনা শেষে ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৭.০৩ শতাংশ ভোট, আর লুলা পেয়েছেন ৪৫.১৬ শতাংশ।
ফ্লাভিওর এই ফলাফল অনেকের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে। প্রথম দফায় বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থীও ডানপন্থী ঘরানার হওয়ায় দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে তাদের ভোট কোন দিকে যায়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ফ্লাভিওর দল লিবারেল পার্টি (পিএল) এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গভর্নর, সিনেটর ও ফেডারেল ডেপুটি নির্বাচিত করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে কংগ্রেসে দলটির প্রভাবও সবচেয়ে বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ দেশ ইতোমধ্যে ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে এবং এসব সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছে। ফলে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ও বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল একই পথে যাবে কি না, তা নির্ধারণ করবে এই রান-অফ নির্বাচন।
ভোট দেওয়ার পর ৮০ বছর বয়সী লুলা বলেন, এবারের নির্বাচন মূলত গণতন্ত্র ও ‘বর্বরতার’ মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার লড়াই। অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো বলেন, তিনি ‘ব্রাজিলের জনগণকে মুক্ত করতে’ চান।
লুলা ও বলসোনারো—ব্রাজিলের বাম ও ডান রাজনীতির দুই সবচেয়ে পরিচিত মুখ। এবারের প্রচারণায়ও দেশটি তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্য দিয়ে গেছে। ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল জাতীয় সার্বভৌমত্ব, অপরাধ, অর্থনীতি ও দুর্নীতি।
ব্রাজিলের দরিদ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল, নিম্নআয়ের ভোটার, ক্যাথলিক ও নারী ভোটারদের মধ্যে লুলার সমর্থন তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল, তুলনামূলক সচ্ছল ভোটার এবং ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের মধ্যে ফ্লাভিওর সমর্থন বেশি।
লুলা তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ‘সার্বভৌমত্বকে’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করার অভিযোগও এনেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন মাদকপাচারবিরোধী ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ জোটে যোগ দিতে পারে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।