আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের আনা একাধিক আইন সংসদে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আগামী ২৯ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। খবর বিবিসির।
সোমবার (৫ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সানচেজ বলেন, সংস্কার কার্যকর করতে তাঁর প্রয়োজন এমন একটি 'বৃহত্তর প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা', যারা 'অভিজাতদের প্রতিরোধ' মোকাবিলা করতে পারবে।
সম্প্রতি ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় সরকারের দুটি অধ্যাদেশ সংসদে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরই আগাম নির্বাচন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এর মধ্যে ৮৭ বছর বয়সী এক নারী ভাড়া বৃদ্ধির অর্থ দিতে না পারায় বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়। শনিবার মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও ভ্যালেন্সিয়াসহ বিভিন্ন শহরে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা জোরদারের দাবিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন।
মারিকারমেন আবাসকাল নামের ওই ৮৭ বছর বয়সী নারী ২৩ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদে ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হন। তাঁর ভাড়া ৫০০ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৬৫০ ইউরো করা হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে ১ হাজার ৬৫০ ইউরো করা হলেও সেটিও তাঁর মাসিক পেনশনের চেয়ে ৩০০ ইউরো বেশি। স্ট্রেচারে করে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর আইনজীবী জানান, তিনি বাড়িতে ফিরতে পারবেন।
বিক্ষোভ প্রশমনে সানচেজের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোট সরকার ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় দুটি অধ্যাদেশ আনে। এর একটিতে ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্থগিত, নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়া ভাড়া চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো এবং পর্যটন আবাসনে কর বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। অন্যটিতে ভাড়া চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের বিধান থাকায় তা আরও বিতর্ক সৃষ্টি করে।
তবে বিরোধী রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) সরকারের এসব উদ্যোগের বিরোধিতা করে। দলটির নেতা আলবার্তো নুনিয়েস ফেইহো সোমবার বলেন, 'অবশেষে স্পেনীয়রা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।' তিনি বলেন, এটি 'আরেকটি সাধারণ নির্বাচন' নয়; বরং ভোটারদের অবক্ষয় নাকি পরিবর্তন, দুর্নীতি নাকি পরিবর্তন—তার মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ।
আবাসন সংকটের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে সানচেজের সরকার একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত চাপের মুখেও রয়েছে। তাঁর স্ত্রী বেগোনিয়া গোমেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে, যা সানচেজ ডানপন্থীদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া তাঁর দল ও সাবেক এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলা হয়েছে।
সানচেজ ২০১৮ সালের জুন থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে তাঁর সোশ্যালিস্ট পার্টি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেলেও কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। পরে বামপন্থী দল ও কাতালান-বেস্ক জাতীয়তাবাদী এবং স্বাধীনতাপন্থী দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠন করেন তিনি।
২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের আগে স্পেনে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তবে আগাম নির্বাচনের ঘোষণার ফলে এখন ২৯ নভেম্বরই দেশটির পরবর্তী সরকারের জন্য ভোট দেবেন স্পেনীয়রা।