স্তাদ দ্য ফ্রান্সের প্রথমার্ধের জমাট অন্ধকার যখন ফরাসি শিবিরকে গ্রাস করতে চলেছিল, ঠিক তখনই ডাগআউটের মাস্টারমাইন্ড জিদান আর বদলি নামা পারফর্মার মাইকেল ওলিসেরা মিলে সেটিকে দারুণ এক প্রত্যাবর্তনে রূপান্তর করলেন। কোচের দেখানো পথ আর শিষ্যদের সম্মিলিত নিবেদন ফরাসি ফুটবলে ফিরিয়ে এনেছে এক চেনা সাফল্যের সুবাস। সব মিলিয়ে ফরাসি ফুটবলের এই নতুন পথচলা এখন এক অন্য উচ্চতায়।
প্রথমার্ধে দোদ লুকেবাকিয়োর গোলে বেলজিয়াম এগিয়ে গেলেও, দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয় কামব্যাকে পুরো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় ফ্রান্স। বদলি খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যে মাত্র ১৪ মিনিটের ঝড়ে চার গোল পরিশোধ করে শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। আর এটিই ছিল ঘরের মাঠে কোচ হিসেবে জিদানের প্রথম জয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধের কঠিন লড়াই এবং জমাট রক্ষণ ভেদ করার চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শেষ মুহূর্তে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল ‘টিএফওয়ান’-এ ওলিসে বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা ম্যাচের শেষভাগে ভালো খেলেছি। প্রথমার্ধ কঠিন ছিল, কারণ জমাট রক্ষণ ভেদ করা সবসময়ই কঠিন। আমরা চাপ বজায় রেখেছিলাম এবং শেষটা ভালো হয়েছে, তাই আমরা খুশি।’
দলের সাফল্যের নেপথ্যে কোচের কৌশলগত পরিকল্পনা ও মাঠের ফুটবলে তার নিখুঁত বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরে ওলিসে যোগ করেন, ‘এটি একটি দলগত প্রচেষ্টা। তিনি (জিদান) বিভিন্ন আইডিয়া সামনে নিয়ে আসেন, আর আমরা সেগুলোর অনুসরণ করি। গত চার ম্যাচে আমরা এটি দারুণভাবে করেছি এবং আমরা এভাবেই এগিয়ে যাব।’
এছাড়া ফরাসি জাতীয় দলের দুর্দান্ত পরিবেশ এবং সতীর্থদের সঙ্গে খেলার আনন্দ নিয়ে এই তারকা ফরোয়ার্ড নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, ‘ফরাসি জাতীয় দলের হয়ে আমি এখনও বেশ আনন্দিত। এই দলের হয়ে খেলা আমার জন্য দারুণ এক সৌভাগ্যের ব্যাপার। এখানে অনেক বিশেষ মানের খেলোয়াড় রয়েছে। আমি এখানে খেলতে পেরে আনন্দিত।’
ডাগআউটে জিদানের মাস্টারস্ট্রোক
ঘরের মাঠে প্রথম জয়ের পর ফুটবলের রোমাঞ্চকর সৌন্দর্য এবং প্রথমার্ধের কঠিন পরিস্থিতি সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর কৃতিত্ব জিদান দিলেন ওলিসেদেরই। নাটকীয় এই প্রত্যাবর্তনকে আখ্যা দিলেন এইটাই ফুটবল আর এটাকেই সবাই ভালোবাসি। এসব প্রসঙ্গ টেনে ম্যাচ শেষে জিদান বলেন, ‘এটাই ফুটবল, এটাই আমরা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। আমরা প্রথমার্ধে কিছু সমস্যার মুখে পড়েছিলাম, তবে সেটি খেলারই অংশ; মাঝেমধ্যে এমন ম্যাচ আপনার কপালে জুটেবেই। পরিস্থিতি সামলে সঠিক পথে ফেরাটা জরুরি ছিল, ঠিক সেটাই আমরা করেছি এবং একটি অসাধারণ দ্বিতীয়ার্ধ উপহার দিয়েছি।’
বদলি খেলোয়াড়দের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স ম্যাচের গতিপ্রকৃতি কীভাবে বদলে দিয়েছে এবং পুরো দলের সম্মিলিত নিবেদন নিয়ে জিদান আরও বলেন, ‘আমরা জানতাম যে বদলি খেলোয়াড়রা ম্যাচের রঙ বদলে দিতে পারে, কারণ তাদের স্কিল উচ্চমানের। তবে আবারও বলছি, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ দলগত পারফরম্যান্স। বদলি খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে পার্থক্য গড়ে দিলেও, গত দুই সপ্তাহে সবাই দুর্দান্ত খেলেছে। প্রত্যেকেই নিজের ভূমিকা পালন করেছে, আর এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
এবারের ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে এটাই ছিল ফ্রান্সের শেষ ম্যাচ। চার ম্যাচে তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষেই আছে ফরাসিরা।