ইসরায়েলের বিপক্ষে আর খেলতে চায় না আয়ারল্যান্ড

মাঠ আর ফুটবলের আনন্দময় মুহূর্ত ছাপিয়ে রাজনীতি ও উত্তেজনার পারদ চরমে তুলেছিল আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ দুটি। গাজার পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক চাপ, বয়কটের দাবি এবং মাঠের ভেতরের নানা অপ্রীতিকর ঘটনায় এই দুই দলের লড়াই কেবল একটি ৯০ মিনিটের ফুটবল ম্যাচে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও স্নায়ুক্ষয়ী এক অধ্যায়।

হাঙ্গেরির দেবরসেনে ইসরায়েলের ‘হোম’ ম্যাচ এবং সার্বিয়ার বাচকা টপোলায় আয়ারল্যান্ডের ‘হোম’ ম্যাচ; উভয় লড়াইয়ের আগেই পরিবেশ ছিল চরম থমথমে। আয়ারল্যান্ডে ফিলিস্তিনের পক্ষে শক্তিশালী জনমত থাকায় ম্যাচগুলোর আগে আইরিশ ফুটবলারদের ওপর তীব্র চাপ ছিল যেন তারা ম্যাচগুলো বয়কট করেন। 

তবে উয়েফার কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হলেও মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের উত্তাপই বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। জাতীয় সঙ্গীতের সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকী প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক বৈরিতা পুরো সিরিজটিকে এক বারুদের স্তূপে পরিণত করে। মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য জিতেছে আইরিশরা। আগের ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পর ফিরতি লেগে গত রবিবারের ম্যাচটি হয়ে ১-১ গোলের ড্র।

মাঠের এমন পরিবেশ এবং গত দুই সপ্তাহের দুঃসহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এই দুই দলকে প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি না করার জন্য উয়েফার প্রতি কড়া আহ্বান জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হালগ্রিমসন। আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘আরটিই’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইরিশ কোচ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডে ফিলিস্তিনের প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। ফিলিস্তিনকে আয়ারল্যান্ডের মতো এত বেশি সমর্থন করে এমন দেশ খুব বেশি নেই। এই দুই সপ্তাহে আমরা যা সহ্য করেছি, তা আমি কোনো জাতীয় দলের ওপর দিয়ে যেতে যেতে দেখতে চাই না, তাই হয়তো উয়েফার এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করা এবং কিছু করা উচিত।’ 

পরিস্থিতি যে কতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল, তার প্রমাণ মিলেছে মাঠের ভেতরের হাতাহাতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়। সার্বিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধের ঠিক আগে আইরিশ ফিটনেস কোচ দামিয়েন ডয়েলকে এক ইসরায়েলি খেলোয়াড় থুতু দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। 

এ প্রসঙ্গে কোচ হালগ্রিমসন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারত এবং প্রতিপক্ষ তাদের উস্কে দিয়ে বড় কোনো ভুল করাতে চেয়েছিল। এছাড়া ম্যাচের আগের দিন এক সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা অভিযোগ এবং প্রথম ম্যাচে আইরিশ ফরোয়ার্ড অ্যাডাম ইডার বিরুদ্ধে গ্যালারি থেকে বর্ণবাদী আচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ দুই দলের লড়াইকে চরম অস্বস্তিকর এক পর্যায়ে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে তাইভবিষ্যতে এমন কিছুর মুখোমুখি না হতে উয়েফার নিকট আর্জি জানাল আইরিশরা।