হিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ আহত ৮

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ ৮ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে হিলির সাদুরিয়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। 

আহতরা হলেন— হিলির সাদুরিয়া এলাকার শেফালী (৩০), শিউলি (২৭), দেবাশী (৪৩), ডলি (৩০), ইয়াসিন আরাফাত (১১), সুফিয়ান (৩৯), মমতাজ (৫৫), রাহুল (৯)। 

শিয়ালের কামড়ে আহত দেবাশী জানান, আমরা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার দিকে বাজার থেকে বাসায় যাচ্ছিলাম। এসময় রাস্তার পথিমধ্যে হঠাৎ করেই শিয়াল এসে কামড় দেয়। আমাকে কামড় দেওয়ার পর পাশে আরেকজনের বাসা আছে সেই বাসার পার্শ্বে আরও তিন চারজনকে ওই শিয়াল আক্রমণ করে। আমাদের এলাকায় শিয়াল আছে কিন্তু এরকম মনে হয় কখনও আক্রমণ হয়নি, এটাই প্রথম।  

আহত শেফালি রানী বলেন, বাড়ির পাশে দোকানে গেছি পান খাইতে। যাইতেই দেখি একটা শিয়াল দৌড়ে আসতেছে আর সবাইকে কামড়াচ্ছে। তখন মানুষজন এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। এর মধ্যে শিয়ালটি দোকানের দিকে দৌড়ে আসে, সেখানে একটা ছোট বাচ্চাকে আক্রমণ করতে হা করে আসতে দেখি আমি বাচ্চার হাত ধরে পাশে ঠেলে ফেলে দেয়। এসময় শিয়ালটি এসে আমার পায়ের গোড়ালিতে কামড় দিয়ে মাংস তুলে নেয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী ছোটন জানান, আমাদের বাসার সামনের মোড়েই ৪জনকে শিয়াল কামড় দিয়ে আহত করছে। আমার বড় ভাই সেই শিয়ালটাকে দাবড়ে নিয়ে আসতেছিল আর আমাদেরকে সাইড হতে বলছিল। এসময় আমাদের সামনে থাকা দুজন মহিলা ছিল, তাদেরকে কামড় দিলো শিয়ালটি। আমিতো একাই শিয়ালটাকে থামানোর চেষ্টা করেও থামতে পারছিলামনা। এভাবে আমাদের গ্রামে এক এক করে মোট ৭জনকে শিয়ালটি কামড় দিয়ে আহত করেছে। পরে আমরা সবাই মিলে শিয়ালটাকে মেরে ফেলাইছি। এলাকায় অনেক শিয়াল দেখা যায় যেহেতু বাড়ির পাশে মাঠ তো, ওখান থেকে অনেক শিয়াল গ্রামের মধ্যে চলে আসে।

শিয়ালের কামরে আহত রাহুল নামের ছোট শিশু বলেন, আমি আমার এক বন্ধুকে খুঁজতে দোকানের দিকে গিয়েছিলাম। এসময় শিয়ালটি দৌড়ে এসে আমার পেটের মধ্যে কামড় মারছে।

শিউলি জানান, আমি বাড়ি থেকে আমার ছেলেকে খুঁজতে রাস্তায় আসছি। আসার পথে মনে করো পাগলা কুত্তার মতো শিয়াল এসে কামড় মারছে। এত চিল্লাচিল্লি করছি, কেউ আসেও না, কেউ কিছুই করেও না। শিয়ালটি আমাকেও কামর দিয়েছে এসময় পাশে থাকা এক ছেলেকেও কামর দিয়েছে। শিয়ালের কামরে আমরা দুজনেই রাস্তায় গড়াগড়ি করছি কেউ আসেনা।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তাওহীদ জামান বলেন, গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত ইমার্জেন্সিতে ৮ জন শেয়াল কামরানো রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি। চিকিৎসা শেষে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে রোগীগুলো আসছে সেগুলো একই এলাকা থেকে আসছে। মনে হচ্ছে কোনো অভুক্ত বা অসুস্থ কোনো শিয়াল তাদেরকে কামড়াচ্ছে। আমরা যেটি দেখলাম শিয়ালগুলো কামড়ানোর যে চেহারা, আঘাতটা খুবই গুরুতর। আমরা প্রাথমিকভাবে তাদেরকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধোয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি। ধোয়ার পরে আমরা তাদেরকে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন এবং র‍্যাবিস আইজি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। তাদেরকে নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য বলেছি।