সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর ক্রমাগত হামলা, হুমকি, হয়রানি ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ ও দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ওই ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সাংবাদিকরা কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করেন না; তারা সর্বদা জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করেন।
সম্পাদক পরিষদ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে যে, কোনো সংবাদ, মতামত বা সাংবাদিকের পেশাগত কর্মকাণ্ডের প্রতি মতবিরোধ বা অসন্তোষ থাকলেও হামলা, হুমকি কিংবা কাজে বাধা দেওয়ার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো কেবল একজন পেশাজীবীর ওপর আক্রমণ নয়; এটি মূলত স্বাধীন সাংবাদিকতা, জনগণের বাকস্বাধীনতা এবং তথ্য জানার মৌলিক অধিকারের ওপর এক নগ্ন আঘাত।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় ইতোমধ্যে গৃহীত মামলা ও তদন্তের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। তবে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, এই তদন্ত হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও প্রমাণভিত্তিক। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় বিবেচনা না করে তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
৫ দফা দাবি
১. সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক সব হামলা, হুমকি ও হয়রানির দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।
২. জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত, প্রশাসনিক কার্যালয় ও অন্যান্য জনসমাগমস্থলে সাংবাদিকদের নিরাপদে দায়িত্ব পালনের অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. পেশাগত কাজে বাধা প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৫. রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনসহ সব পক্ষকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার প্রতি স্পষ্ট অঙ্গীকার প্রকাশ করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনের জন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোনো বিশেষ সুযোগ বা সুবিধা নয়, বরং এটি একটি অপরিহার্য শর্ত। ভয়, হুমকি ও সহিংসতার আবহ তৈরি হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা টিকে থাকতে পারে না।
অনতিবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত, দৃশ্যমান ও আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।