ফরিদপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি, দুটি ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, ওয়াকিটকি ও ইয়াবাসহ সাফায়েত আহমেদ (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০ (এসআরবি-১০)।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে এসআরবি-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে কোতয়ালী থানার উত্তর কালীবাড়ি এলাকার জেনারেল হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মাদকসেবীরা পালিয়ে যায়। এ সময় ভবনটি তল্লাশি করে একটি বিদেশি রিভলবার ও পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, সকাল ৯টার দিকে শহরের নীলটুলি এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায় এসআরবি-১০ সদস্যরা। অভিযানের সংবাদ পেয়ে সাফায়েত আহমেদ নামের এক ব্যক্তি পালিয়ে যেতে চাইলে তাকে আটক করা হয়। তিনি শহরের চরকমলাপুর এলাকার মৃত বশির আহমেদের ছেলে। পরবর্তীতে, সাফায়েতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে দুটি ককটেল, একটি খেলনা রিভলবার, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি রামদা, একটি ছুরি, একটি সুইচ গিয়ার, একটি ওয়াকিটকি, একটি ট্রেজার গান, ২৫ রাউন্ড গুলির খোসা ও ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, অভিযানে সেনাবাহিনীর দুটি ক্যাপ, এপিবিএনের একটি ক্যাপ ও সেনাবাহিনীর একটি কোমর বন্ধনী জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাফায়েত দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে জানিয়েছে এসআরবি-১০। তিনি কোতয়ালী থানার একটি মাদক ও একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলার এজাহারনামীয় আসামি বলেও প্রাথমিকভাবে জানানো হয়।
উদ্ধার করা অস্ত্র, গোলাবারুদ, ককটেল, মাদক ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার সাফায়েতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি কর্মকর্তারা আরো জানান, মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০-এর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ফরিদপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।