আদালতে পুলিশ সাক্ষী হাজির করতে এবার ডিএমপির চিঠি

বিচারাধীন মামলার ধার্য তারিখে পুলিশ সাক্ষীদের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে ‘চট্টগ্রামে ৭০০ পুলিশ সাক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা’ শিরোনামে দেশ রূপান্তরে সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ঘিরে সিএমপিসহ দেশের পুলিশ বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদটি প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)ও। বিচারাধীন মামলার ধার্য তারিখে পুলিশ সাক্ষীদের আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করতে সোমবার (৫ অক্টোবর) ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনারের পক্ষে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সিআরও) ফাহমিদা হক শেলী চিঠিটি ইস্যু করেন। এতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রতি মাসে কতজন পুলিশ সাক্ষীর সমন পাওয়া গেছে, কতজন পুলিশ সাক্ষীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং কতজনকে ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি—তার সুনির্দিষ্ট কারণসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রতিমাসের ৫ তারিখের মধ্যে চিঠি স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তার দপ্তরে ‘ছক’ আকারে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আদালতে পুলিশ সাক্ষীর হাজিরা নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে ৫ অক্টোবর স্বাক্ষরিত ১৩২৪০ স্মারকের ওই চিঠি ডিএমপির সব ইউনিট প্রধানের উদ্দেশে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘সারাদেশে বিচারাধীন মামলায় পুলিশ সদস্যদের সাক্ষ্য প্রদানের দিন ধার্য থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুলিশ সাক্ষীগণ মামলার ধার্য তারিখে অনুপস্থিত থাকেন। ফলে বিচারকার্য প্রক্রিয়া শেষ হতে বিলম্ব হয়।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তর (সিআরও), ডিএমপি ঢাকা থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য যেসব পুলিশ সদস্যের নামে সমন পাঠানো হয়, তাদের ধার্য তারিখের আগে অবহিত করা এবং যথাসময়ে সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।

এতে বলা হয়, ধার্য তারিখে কোনো পুলিশ সাক্ষী আদালতে হাজির না হলে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে সংশ্লিষ্ট আদালত অথবা কোর্ট পুলিশ পরিদর্শককে জানাতে হবে। পাশাপাশি এর অনুলিপি সিআরও, ডিএমপি বরাবর পাঠাতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির না হওয়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার অন্তত ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। এর মধ্যে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে অজামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

গত ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (সদর) কার্যালয় থেকে ১৮টি পৃথক স্মারকে চিঠি চট্টগ্রামসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। চিঠিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলায় সাক্ষ্য প্রদানের জন্য চলতি অক্টোবর ও আগামী নভেম্বর মাসের ধার্য তারিখে সকাল ৯টার মধ্যে সাক্ষীদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার অনুরোধ জানানো হয়।

এর আগে গত ১ অক্টোবর নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের কার্যালয় থেকে ১২১ জন পুলিশ সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার বিষয়ে জেলার বিভিন্ন থানায় চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, সারাদেশে বিচারাধীন মামলায় পুলিশ সদস্যদের সাক্ষ্য প্রদানের জন্য দিন ধার্য থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ সাক্ষীরা মামলার ধার্য তারিখে অনুপস্থিত থাকেন।

চিঠিতে বিচারাধীন মামলাগুলোতে যথাসময়ে পুলিশ সাক্ষীর হাজিরা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনা কারণে অনুপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।