ব্যস্ত জীবনে কোরআনের অবস্থান কতটুকু

কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা প্রতিনিয়ত নানা সংকট ও বিপদের সম্মুখীন হই। ব্যক্তিগত, সামাজিক কিংবা আত্মিক নানা জটিলতা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে বিভিন্ন উপায়ের দ্বারস্থ হই। অথচ এই অনুসন্ধানের মাঝেই অনেক সময় ভুলে যাই কোরআনের কথা। রোজ ভোরে নামাজের শেষে কোরআনের সান্নিধ্য এবং এর আলোকে পুরো দিনের কর্মপরিকল্পনা সাজানোর বিষয়টি আমরা ক্রমেই ভুলতে বসেছি।

মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য যে গ্রন্থটি শাশ্বত ও পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে, আমাদের জীবনে তার অবস্থান ঠিক কতটুকু তাই ভাবার বিষয়। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের কত প্রচেষ্টা! অথচ এ গ্রন্থেই মহান রব ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চিতই তা (কোরআন) হলো মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমত। আপনার রব নিজ শাসন ক্ষমতা অনুযায়ী তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। তিনি পরাক্রমশালী, সুবিজ্ঞ।’ (সুরা নামল ৭৭-৭৮)

এই পবিত্র গ্রন্থে মানুষের জন্য রয়েছে হেদায়াত, স্বস্তি ও পথনির্দেশের অসংখ্য দিক। এ ব্যাপারে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে মহান রবের ঘোষণা, ‘তারা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? আর এটা (কোরআন) যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে নাজিল হতো, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।’ (সুরা নিসা ৮২)

জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগের বর্বর মানুষকে কোরআন তার আদর্শ ও বাণীর স্পর্শে সোনার মানুষে পরিণত করেছিল, যা ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর রূপান্তর।

পরশ পাথরের স্পর্শে ধাতুর মূল্য যেমন বৃদ্ধি পায়, কোরআনের সান্নিধ্যে মানুষের মর্যাদাও তেমনি বৃদ্ধি পায়। যে ব্যক্তি কোরআনের আদর্শকে নিজের জীবনে ধারণ করে, সে আল্লাহর কাছে সম্মানিত হয়। তাই কর্মব্যস্ত জীবনের প্রতিটি স্তরে কোরআনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়