প্রতিবেশীর খেয়াল রাখা ইমানের দাবি

আজ থেকে ৩০-৩৫ বছর আগে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে একতা, মহব্বত ও পারস্পরিক দেওয়া নেওয়ার সম্পর্ক ছিল বেশ দৃঢ়। কারও বাড়িতে লাউ ধরলে তা আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠানো হতো। কেউ বেশি মাছ ধরলে প্রতিবেশীর বাড়িতে মাছ পৌঁছে দিত। গাছে ফল পাকলে সবাইকে ভাগ করে খাওয়ানো হতো। গরুর দুধও পাঠানো হতো আপনজনের বাড়িতে। এখনো এসবের কিছুটা দেখা যায়। তবে আগের মতো নয়। অথচ তখনকার মানুষ খুব ধনী ছিলেন না। আজ মানুষের সম্পদ ও ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু স্বতঃস্ফূর্ত ভাগাভাগি, মায়া, স্নেহ, ভালোবাসা ও পারস্পরিকতার সেই সুন্দর সংস্কৃতি যেন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

কিন্তু কেন? আমরা এখন খুব বেশি নিজেকে নিয়ে ভাবি। নিজের কথা চিন্তা করি, নিজের প্রয়োজন ও সুবিধাকে প্রাধান্য দিই। ফলে অন্যের কথা ভাবার অবকাশ যেন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। অথচ আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের প্রতিবেশীর কথা ভুলতে নিষেধ করেছেন। আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবু জর! যখন তুমি তরকারি রান্না করবে তখন তাতে ঝোল বেশি দাও এবং তোমার প্রতিবেশীকে কিছু প্রদান করো। (সহিহ মুসলিম ২৬২৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে। (সহিহ বুখারি ৬০১৯)

এমনকি সামান্য উপহারকেও তুচ্ছজ্ঞান করতে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীর পাঠানো সামান্য উপহারকেও তুচ্ছ মনে না করে। (সহিহ বুখারি ২৫৬৬)

মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন।’ (সুরা নাহল ৯০)

আরও বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ না করে যে, তারা আত্মীয়স্বজন, অভাবগ্রস্ত এবং আল্লাহর পথে যারা গৃহত্যাগ করেছে, তাদের কিছুই দেবে না। তারা যেন ক্ষমা করে এবং দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? আর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা নুর ২২)

আমাদের চারপাশে সম্পদ বেড়েছে, জীবনযাত্রার মানও বেড়েছে। কিন্তু সেই সম্পদের সামান্য অংশ দিয়ে যদি আপনজনের মুখে হাসি ফোটাতে, প্রতিবেশীর সঙ্গে ভাগ করে নিতে এবং বিপদাপদে পাশে দাঁড়াতে না পারি, তাহলে সেই প্রাচুর্যের পূর্ণতা কোথায়? আমাদের একটু পেছনে ফিরে তাকানো দরকার, সেই দিনগুলোর দিকে, যখন একটি লাউ, কয়েকটি মাছ কিংবা কিছু ফলও মানুষের মধ্যে মহব্বতের সেতু তৈরি করত।

লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার