ফ্রান্সের বিক্ষোভের জন্য ইসলামকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

ফ্রান্সজুড়ে চলমান ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভকে 'নিয়ন্ত্রণহীন গণঅভিবাসন' ও ইসলামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবির সঙ্গে অভিবাসন বা ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই; স্কুলের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ ভবন, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা খাতে অর্থায়ন কমে যাওয়ার প্রতিবাদেই আন্দোলন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্স। খবর পলিটিকো ও আনাদোলু এজেন্সির। 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা 'নিয়ন্ত্রণহীন গণঅভিবাসনের' ফল। তাঁর ভাষায়, এটি স্কুল নিয়ে কোনো আন্দোলন নয়; বরং ইসলাম একটি একসময়কার মহান দেশকে দখল করে নিতে চাইছে।
 
গত সপ্তাহে স্কুলের অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভের সূচনা হয়। এরপর তা দ্রুত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বেশিরভাগ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এমনকি সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং আরেকজন এক চোখে দৃষ্টিশক্তি হারায়।

চলমান বিক্ষোভের একাংশ, ছবি: উইকিমিডিয়া

মঙ্গলবার এর আগে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নেন।

এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের জবাব দেন। তিনি বলেন, ফ্রান্সকে নিজেদের ঘটনাপ্রবাহের ব্যাখ্যা নিজেরাই দিতে হবে, অন্যদের তৈরি করা বয়ান মেনে নেওয়া উচিত নয়। তাঁর ভাষায়,'আমরা যদি নিজেদের গল্প নিজেরা না লিখি, অন্যরা তা আমাদের হয়ে লিখবে।'

বারো বলেন, ফ্রান্সের প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রতিপক্ষ ও মিত্র—সবাই চলমান আন্দোলনকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে। 

এরই মধ্যে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৪৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য আহত হয়েছেন।

আয়োজকদের দাবি, কয়েক দশকের মধ্যে ফ্রান্সে এটি অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন।