দুই বছর মাঠে যান না কৃষি কর্মকর্তা!

শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের এক উপ-সহকারী দুই বছর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়নে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের কৃষি পরামর্শ না দেওয়াসহ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগ কৃষি পণ্য দেওয়ার কথা বলে কৃষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন ঐ কর্মকর্তা। ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

জানা যায়, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুসকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত মাঠে পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে করে বিভিন্ন কৃষি পণ্যের বিষয়ে পরামর্শ না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষক।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ সহজ সরল কৃষক এবং কৃষি পণ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সার বীজ ও অন্যান্য কৃষি পণ্য দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসে রুহুল কুদ্দুস মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসারকে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান কৃষকরা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুসের নামে একাধিক মামলা থাকায় এবং কৃষকদের সাথে আর্থিক লেনদেনের কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় যেতে পাচ্ছেন না। এ ছাড়াও উপজেলা অফিসে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ করে হাজিরা খাতায় গোপনে স্বাক্ষর এবং দায়িত্ব পালন না করেই বেতন উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে রুহুল কুদ্দুস পলাতক রয়েছেন। এই বিষয়ে জানতে ঝিনাইগাতি উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ফরহাদ হোসেনের কাছে গেলে তিনি সাংবাদিকদের ৩ ঘন্টা অফিসে বসিয়ে রেখে কৌশলে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

কৃষক ফরহাদ আলী বলেন, আমাদের উপজেলা অফিসে যাওয়ার কথা না, রুহুল কুদ্দুসের মাঠে আসার কথা কিন্তু তিনি তা করে না। টাকা পয়সা নিয়ে মামলা খেয়ে উনি এখন উধাও। উপজেলা কৃষি অফিসারকে জানালেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

ঝিনাইগাতি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, রহোল কুদ্দুসের সাথে বছর খানেক আগে দেখা হয়েছিলো। এরপর তাকে আর দেখিনি। শুনেছি তার নামে মামলা হয়েছে। তবে তিনি মাঠে আসেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন দেশ রুপান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজ নেব। চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবগত করবো।