রোহিঙ্গা সংকট: নতুন করে বৈশ্বিক সংহতি ও টেকসই সমাধানের আহ্বান

রোহিঙ্গা সংকট প্রায় এক দশক পেরিয়ে যাওয়া নতুন করে বৈশ্বিক সংহতি ও টেকসই সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে এনজিও প্ল্যাটফর্ম। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার (৭ অক্টোবর) কক্সবাজারের আয়োজিত ‘টুওয়ার্ডস টেন ইয়ার্স অব সলিডারিটি: ফ্রম ইমার্জেন্সি রেসপন্স টু সাসটেইনেবল সলিউশন্স’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে এআহ্বান জানানো হয়।

কক্সবাজারের আয়োজিত এই সংলাপে গত নয় বছরের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা পর্যালোচনা, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগণের বর্তমান জরুরি প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার চিহ্নিতকরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট থেকে টেকসই সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য একটি যৌথ ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম থেকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে আলোচনায় প্রায় এক দশকের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম থেকে অর্জিত শিক্ষা কাজে লাগানোর পাশাপাশি পরিবর্তিত বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও শক্তিশালী ও সম্মিলিত চিন্তার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অংশগ্রহণকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন, বিদ্যমান ঘাটতি এবং মর্যাদা ও সহনশীলতা জোরদারের অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে মানবিক, উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ কীভাবে সম্মিলিতভাবে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে অবদান রাখতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি জরুরি সাড়াদান থেকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট ব্যবস্থাপনার দিকে অগ্রসর হওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

গোলটেবিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল, সমাধান কেবল ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য নয় বরং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ও তাদের সঙ্গে নিয়ে তৈরি করতে হবে।

সংলাপে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও সংহতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহনশীলতা, মর্যাদা ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, যখন দশ বছরের মাইলফলকের কাছাকাছি, তখন এনজিও প্ল্যাটফর্ম গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করে যে, ভবিষ্যতের পথনকশা তৈরিতে বিগত বছরগুলোর শিক্ষা কাজে লাগানোর পাশাপাশি পরিবর্তিত বাস্তবতা ও নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

গোলটেবিল থেকে আন্তর্জাতিক সংহতি অব্যাহত রাখা, স্থানীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয়করণ আরও শক্তিশালী করা, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দাতা সংস্থা, স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, সুশীল সমাজ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।