গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এবং কুষ্টিয়ার তিন আওয়ামী লীগ নেতার রায় জানা যাবে যে কোনোদিন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) এ মামলায় সবশেষ ধাপ যুক্তিতর্কের শুনানি নিয়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নের্তৃত্বে গঠিত আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- ২ রায় যে কোনোদিন ঘোষণা করা হবে মর্মে অপেক্ষমান রাখে। গতকাল আসামিপক্ষে শুনানি শেষ হয়।
মামলার আসামিরা হলেন, মাহবুব উল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী ও কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।
আসামিদের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগও আনা হয়েছে হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে।
এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। গত ২৩ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। এরপর ১১ মে থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে প্রসিকিউশনপক্ষ। গত সোমবার প্রসিকিউশনপক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম। তিনি চার আসামির সর্বোচ্চ সাজার (মৃত্যুদণ্ড) আরজি জানান।
প্রসিকিউশনপক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর গত বছরের ২ নভেম্বর হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। একই দিন চারজনকে গ্রেপ্তার করতে পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুানাল। তবে, আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।