যেভাবে এলো কাগুজে মুদ্রা

মুদ্রার ইতিহাস শুরু পণ্য বিনিময়ের হাত ধরে। আজ যা এসেছে ডিজিটাল ক্রিপ্টোকারেন্সিতে। তিন হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দে বিনিময় প্রথা শুরু হয়েছিল মেসোপটেমিয়া শহরে। তারা উদ্ভাবন করেছিল সম্পদ থেকে ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থা। এর সীমাবদ্ধতা দূর করতে শুরু মুদ্রা প্রচলন। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ানরা উদ্ভাবন করে ইতিহাসের প্রথম মুদ্রা- শেকেল। এরপর সোনা ও রুপার মতো ধাতব মুদ্রার প্রচলন। প্রায় ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চীনের ‘ঝাউ’ রাজবংশের শাসনামলে ব্রোঞ্জের মুদ্রা আসে, পরবর্তীকালে লেনদেন সহজের জন্য আসে কাগুজে মুদ্রা। সপ্তম শতাব্দীতে ‘টাং রাজবংশের’ আমলে প্রথম কাগুজে নোট বা ঋণ রসিদের ব্যবহার শুরু। এরপর সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপে কাগুজে মুদ্রার প্রচলন। রেনেসাঁ শুরুর দিকে ইতালির বিভিন্ন শহরে আসে ব্যাংকিং ব্যবস্থা। অন্যদিকে সুলতানি ‘টাঙ্কা’ চালু হয় ১৩২৯ সালে দিল্লি সালতানাতের সম্রাট মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সময়। চীনের মঙ্গল এবং পারস্যদের মুদ্রার আদলে তৈরি করা এই টাঙ্কা ব্যবহৃত হতো, প্রতিনিধিত্বমূলক মুদ্রা হিসেবে। মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের আমলে চাণক্যের ‘অর্থশাস্ত্রে’ রূপ্যরূপ (রুপা), সুবর্ণরূপ (সোনা) ও তাম্ররূপ (তামা) মুদ্রার উল্লেখ পাওয়া যায়। তুঘলক রাজবংশের পতনের পরে মুঘল সাম্রাজ্যের শুরুতে কিছু অঞ্চলে প্রচলিত ছিল টাঙ্কা।  চীনের সুং সা¤্রাজ্যের সময় সিচুয়ানে ১০২৪ সালে বিশ্বের প্রথম কাগুজে মুদ্রা ‘জিয়াওজি’ চালু হয়। বাংলায় টাকার ইতিহাস সমৃদ্ধ। যার উৎপত্তি হয়েছে ১৪শ শতাব্দীতে। ইউরোপ থেকে এশিয়ার বাণিজ্যে লেনদেনকৃত প্রসিদ্ধ মুদ্রা ছিল, টাকা। বর্তমানে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড অর্থের লেনদেন সহজ করেছে। অন্যদিকে আগামী প্রজন্মের লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে এসেছে ডিজিটাল মুদ্রা।