‘মিরর ইমেজ’ রহস্যের সমাধানে রসায়নে নোবেল দুই বিজ্ঞানীর

চলতি বছর রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি কাগান এবং জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই। অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার প্রভাব ও অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস তাদের নাম ঘোষণা করে। নোবেল কমিটি জানায়, অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো কিছু অণু দুটি রূপে থাকে, যা একে অপরের প্রতিবিম্ব। তবে সব জীবদেহে এসব অণুর শুধু একটি রূপই দেখতে পাওয়া যায়। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এই ধরনের বিষমতা কীভাবে তৈরি হয়েছিল, সেটি আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কারটি পেয়েছেন দুই বিজ্ঞানী। তাদের আবিষ্কার ওষুধ তৈরির জন্য রাসায়নিক বিক্রিয়া নকশা করা রসায়নবিদদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তাদের এই গবেষণা দেখিয়েছে, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কীভাবে একটি আয়না-প্রতিবিম্ব অণুর পরিমাণ অন্যটির তুলনায় অনেক বেশি করা যায়। এমনকি এমন এক রাসায়নিক বিক্রিয়াও তৈরি করা সম্ভব, যেখানে শেষ পর্যন্ত প্রায় পুরো উৎপাদনই এক ধরনের অণু দিয়ে তৈরি হয়। রসায়নবিষয়ক নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান হাইনার লিঙ্কে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, হেনরি কাগান এবং কেনসো সোয়াই শত বছরেরও বেশি পুরনো একটি রাসায়নিক রহস্যের সমাধান দিয়েছেন কীভাবে হোমোকাইরালিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৃষ্টি হতে পারে। তাদের উদ্ভাবিত রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো ‘দারুণ চমকপ্রদ’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পুরস্কারপ্রাপ্ত হেনরি কাগান ফ্রান্সের ওরসের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদের সঙ্গে যুক্ত এবং ৯৫ বছর বয়সী কেনসো সোয়াই জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের গবেষক। গত বছর বিপুল পরিমাণ গ্যাস আটকে রাখতে সক্ষম নতুন ধরনের আণবিক কাঠামো উদ্ভাবনের জন্য তিন বিজ্ঞানী রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন। ওই আবিষ্কার বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস অপসারণ কিংবা মরুভূমি থেকে আর্দ্রতা সংগ্রহের সম্ভাবনার পথ তৈরি করে। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীরা পাবেন একটি মেডেল, একটি সনদপত্র এবং মোট ১২ মিলিয়ন বা ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। যেসব বিভাগে একাধিক নোবেলজয়ী থাকবেন, তাদের মধ্যে এই অর্থ ভাগ হয়ে যাবে। বিজ্ঞান, শান্তি ও সাহিত্যে অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯০১ সাল থেকে সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছানুসারে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।