একাধিক বিদায়ী ম্যাচ খেলবেন রোনালদো

একজনের বিদায়, আরেকজনের ফিরে আসার ইঙ্গিত। ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় যেন একই সময়ে এসে বাঁধা পড়েছে দুটি ভিন্ন আবেগে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির বিদায়ী ম্যাচ যখন আবেগে ভাসছে ফুটবলবিশ্ব, ঠিক সেই সময় সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ এক বিবৃতিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছেন রোনালদও। তার এই খোলা চিঠিতে অবসরের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা নেই। বরং ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা জানান, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এখনো গল্প লিখবেন তিনি। ভবিষ্যতে একাধিক বিদায়ী ম্যাচ খেলারও ইঙ্গিত দিয়েছেন সিআরসেভেন।

পর্তুগালের নতুন কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার কয়েক দিন পর মুখ খুললেন রোনালদো। দীর্ঘ বিবৃতিতে ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। কোচের বিরুদ্ধে কথা না রাখার অভিযোগ তুলেছেন, একই সঙ্গে নিজের ভুলও স্বীকার করেছেন। সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। জানিয়েছেন, ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার শাস্তিও মেনে নেবেন। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বলা কথাগুলো। তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি যখন আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামার অপেক্ষায় ছিলেন, তখনই রোনালদো বার্তা, এখনই বিদায় নয়।

সামাসজিক মাধ্যমে শেয়ার করা স্ট্যাটাসে রোনালদো লিখেছেন, ‘আমি বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। শুনেছি, আমার জন্য আমার উপযুক্ত একটি বিদায় দরকার, আর ফেডারেশন আমাকে এই সুযোগ দিতে চায়। আমি আমার সব সমর্থককে, বিশেষ করে পর্তুগালের মানুষকে কথা দিতে পারি, আমরা একটি বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ খেলব। এর জন্য সময় থাকবে।’ তবে বিদায়ী ম্যাচের কথা বললেও জাতীয় দল থেকে এখনই সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি রোনালদো। বরং তার কাছে জাতীয় দলের জার্সি মানেই প্রতিযোগিতা। তাই বিদায়ের আগে আরও লড়াই করতে চান তিনি, ‘তবে জাতীয় দলের কথা ভাবলে আমি আসলে প্রতিযোগিতার কথাই ভাবি।’

পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনার প্রসঙ্গও এসেছে রোনালদোর এই বক্তব্যে। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তার আলোচনায় ঠিক হয়েছিল, প্রয়োজনে তাকে ম্যাচের শেষ ৩০ মিনিট খেলানো হতে পারে। কোচের কথায় রাজি হয়ে ওয়ার্ম-আপও করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি তাকে। ঘটনাটি নিয়ে রোনালদোর অভিযোগ, কোচ তার দেওয়া কথা রাখেননি। এনিয়ে রোনালদো লিখেছেন, ‘বাকিটা সবারই জানা। বিরতির পর থেকে আমি ওয়ার্ম-আপ করতে শুরু করলাম, মিনিটগুলো পেরিয়ে যেতে দেখলাম, কিন্তু কেউ আমাকে ডাকল না। কোচ কথা রাখেননি।’ এরপর কোচের সঙ্গে তার আলোচনা হয়। রোনালদোর দাবি, তাকে যে কথা বলা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনেও সেটিই বলা হবে, এমন প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতিও রাখা হয়নি বলে অভিযোগ তার, ‘এটা ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি কথা রাখলেন না।’ এরপর আরেকটি প্রতিশ্রুতির অপেক্ষা না করে ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে লিখেছেন রোনালদো, ‘আরেকটি প্রতিশ্রুতির জন্য অপেক্ষা না করেই আমি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, যে প্রতিশ্রুতি রাখা হতো না। আমার কাছে মানুষে মানুষে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সত্য যত কষ্টেরই হোক, আমি চাই আমাকে সত্যিটাই বলা হোক।’

ক্যাম্প ছাড়ার পাশাপাশি নরওয়ের ম্যাচের পর সমর্থকদের অভিবাদন না জানানোর ঘটনাকেও নিজের ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন রোনালদো। এ জন্য পর্তুগালের মানুষ, সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি, ‘এই ভুলের দায় একা আমার, আর এমনটা হওয়া উচিত হয়নি। যারা সেখানে উৎসাহ নিয়ে আমাদের পাশে ছিলেন, সেই পর্তুগিজদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছাড়ার জন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছেও আমি ক্ষমা চাইছি। কোচের আস্থার পুরোপুরি ভঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও, এই আলাপগুলোর সাক্ষী প্রত্যেকেই যা প্রত্যয়ন করতে পারবেন, আমার এটা করা উচিত হয়নি। দায় একা আমার।’

ক্যাম্প ছেড়ে আসার ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাকে শাস্তি দিলে সেটিও মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন রোনালদো। নিজের অবস্থানকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘আমার কাজের পরিণতি পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে মূল্যায়ন করতে হবে এবং এর জন্য আমাকে শাস্তি দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, শাস্তি কমানো উচিত নয়। আমি শুধু একজন সাধারণ খেলোয়াড় নই, আমি দলের অধিনায়ক, আর সেটা একটি গুরুতর বিবেচ্য বিষয়।’ একই সঙ্গে পুর্তগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা রোনালদোর লেখায়, ‘আমি যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকি, আমার ক্লাবের হয়ে খেলতে পারি, গোল করতে পারি, তাহলে আমার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, আগের মতোই, আমি জাতীয় দলের হয়ে লড়াই করতে ও জিততে প্রস্তুত থাকব।’