শরতের নরম-কুসুম রোদে এখনো হাসে গ্রামবাংলার প্রান্তর। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর নদীর ঘাটে কাশফুলের দোলা—প্রকৃতির এই মায়াবী আবেশের ভেতরেই যেন ভেসে আসছে ভিন্ন এক ঋতুর আগমনী সুর। দিনের চড়া রোদের তেজ সামলে ভোরের আলো ফোটার আগেই কুমিল্লা জুড়ে নেমে আসছে ধোঁয়াশার আলপনা। মেঘনা উপজেলার মানিকারচর থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তরে ভোরের ঘন কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস আর হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে—হেমন্তের পথ ধরে শীতের পদধ্বনি এখন আর খুব দূরে নয়।
কবির কথায়, ‘আশ্বিনের শেষে এসে সকালের এ আলোয়/কুয়াশার চাদর এক মেখে নিয়ে ভালোয়...’—সত্যিই প্রকৃতি যেন এখন ঋতু পরিবর্তনের এক রূপকথা তৈরি করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলাজুড়ে ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। সকাল সাতটার দিকে মেঘনার মানিকারচর এলাকায় দৃষ্টিসীমা এতই কমে আসছে যে, কয়েক হাত দূরের পথও স্পষ্ট দেখা মেলে না। শিশিরে ভেজা ধানের শিষ ও গাছের পাতায় রোদের প্রথম আলো পড়তেই মুক্তোর মতো ঝিলমিলিয়ে উঠছে চারপাশ।
তবে প্রকৃতির এই অপরূপ কুয়াশার চাদর ভোরের সড়কে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ভোরে দূরপাল্লার বাস ও স্থানীয় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে ও ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। অবশ্য সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের কড়া আলো ফুটে উঠতেই কুয়াশা কেটে জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। দিনের বেলা যথারীতি বাড়ছে গরম ও রোদের তেজ।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে উঠানামা করছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর এর আগের দিন বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শরতের এই সময়ে এমন আবহাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানান, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার পরিবর্তনের ফলেই প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য। আকাশে দীর্ঘ সময় মেঘ থাকার পর হঠাৎ তা সরে গিয়ে আকাশ একেবারে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় শেষরাতে ও ভোরের দিকে দ্রুত তাপমাত্রা কমে এমন কুয়াশার সৃষ্টি হচ্ছে।
শরতের বিদায়লগ্নে রোদ, মেঘ আর কুয়াশার এই মনোরম লুকোচুরি গ্রামের সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মন ছুঁয়ে যাচ্ছে। একই দিনে রোদের দাপট আর ভোরের হিমেল পরশ—সব মিলিয়ে প্রকৃতিজুড়ে এখন বইছে অন্যরকম এক মায়াবী স্নিগ্ধতা।