কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে রড দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দিল যুবদল নেতা

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় শরিফুল ইসলাম (৩৯) নামের এক ব্যবসায়ীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম তারিফুল ইসলাম ওরফে তারিফ। তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব।

হামলার শিকার শরিফুল ইসলাম বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের হরেশপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে জমি বেচাকেনার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর বাজারে ‘মামার বাড়ি’ নামের একটি দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

সংবাদ সম্মেলনে শরিফুলের ভাই আবদুল কুদ্দুস মাখন অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের দাপট দেখিয়ে আমার ভাইয়ের কাছে ধাপে ধাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তারিফুল ইসলাম তারিফ। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, এলাকায় ব্যবসা ও বসবাস করতে হলে চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা না দেওয়ায় আমার ভাইকে দলবল নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ভুক্তভোগী ও তার স্বজনদের দাবি, ঘটনার সময় তারিফের নেতৃত্বে তাঁর ভাই আরিফসহ ১২-১৩ জন শরিফুলের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তারিফ লোহার রড দিয়ে শরিফুলের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে সজোরে আঘাত করলে হাড় ভেঙে যায়। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলার পর শরিফুলের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরিফুল ইসলাম বলেন, বিদেশ থেকে ফিরে এলাকায় ব্যবসা শুরু করার পর থেকেই তারিফ চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোতেই আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দলবল নিয়ে মারধর করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, একই যুবদল নেতা বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহেরের কাছেও চাঁদা দাবি করেছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি (তারিফ) মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে টাকা চেয়েছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী সমাধান করে দেন। এ বিষয়ে এখন আর নতুন করে কথা বলতে চাই না।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব তারিফুল ইসলাম তারিফের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং একপর্যায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক বলেন, যুবদলের কোনো নেতাকর্মীর চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত