ঢাবিতে নিকাব পরা ছাত্রীকে ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ, ইউটিএলের নিন্দা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে বোরকা-নিকাব পরিহিত এক নারী শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত ও কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ইউটিএলের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান।

বিবৃতিতে বলা হয়, এটি শুধু একজন শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করার ঘটনা নয়; বরং শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার প্রতি অবমাননাকর আচরণ, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চশিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ এমন একটি পরিসর, যেখানে মত, বিশ্বাস, চিন্তা, সংস্কৃতি ও জীবনাচরণের বৈচিত্র্যকে সম্মান করার মধ্য দিয়ে মুক্ত ও দায়িত্বশীল জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে ওঠে।

এতে আরও বলা হয়, একজন শিক্ষার্থীর পোশাক কোনোভাবেই তাকে ‘সন্ত্রাসী’, ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ কিংবা অন্য কোনো অবমাননাকর অভিধায় চিহ্নিত করার ভিত্তি হতে পারে না। কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় অনুশীলন বা ব্যক্তিগত পছন্দকে কেন্দ্র করে তাকে হেয় করা, ভয় দেখানো কিংবা নেতিবাচকভাবে ফ্রেম করা শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো শিক্ষার্থীর পোশাক দেখে তার মেধা, চরিত্র, মনোভাব বা যোগ্যতা সম্পর্কে পূর্বধারণা তৈরি করা একাডেমিক ন্যায়বোধের পরিপন্থী।

বিবৃতিতে বলা হয়, একজন শিক্ষক ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, সহনশীলতা, যুক্তিবোধ ও পারস্পরিক সম্মানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। শ্রেণিকক্ষ হবে সুচিন্তা ও মানবিকতার স্থান; অপমান, ভয়ভীতি বা মতাদর্শিক আধিপত্যের নয়।

ইউটিএল বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সংগঠনটি মনে করে, অভিযোগটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যথাযথ তদন্ত করা দরকার। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধি ও নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীর মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান।