মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড প্রদানে আর নয় টালবাহানা: অধ্যাপক ডোনার

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেছেন, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট এবং ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেড যে কোন মূল্যে দ্রুত বাস্তবায়নে করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এম-ট্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ‘চিকিৎসা সেবায় মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিস্টদের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায়  প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

এম-ট্যাব সভাপতি এ কে এম মুসা লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি  ছিলেন কেন্দ্রীয়  ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও ড্যাবের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী।

হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদ সৃস্টি, শূন্যপদ পুরণ এবং গণমানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করণনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এমট্যাব এর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডোনার।

তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিস্ট বেকার থাকা সত্বেও গত ১৭ বছরে  জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। নিয়োগ বিধির দোহাই দিয়ে দশম গ্রেড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হলেও জনবল সংকটে  অলস পড়ে থেকে বিনষ্ট হচ্ছে। 

রাষ্ট্রীয় অর্থে গড়ে ওঠা প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে আর কোনো ‘কোয়ারি’ দিয়ে তাদের ন্যায্য দাবি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। অবিলম্বে ১০ম গ্রেড প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিষ্টরা দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

এ আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে এম-ট্যাব মহাসচিব মো. বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, দবির উদ্দিন তুষার, রওশন আলী রাজুসহ অনেকেই কারাবরণ করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও ড্যাবের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী গণমানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকার শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করবে। সরকারের জনমুখী কর্মসূচি ব্যর্থ করতে মহল বিশেষ চক্রান্ত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশেষ বক্তা ছিলেন এম ট্যাব মহাসচিব বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন  এমট্যাব এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব দবির উদ্দিন তুষার। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন।

নার্সেস নেত্রী বিলকিস জাহান, এম-ট্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি খাজা মাঈন উদ্দিন মঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান, নাছির আহমেদ রতন,শহিদুল আমিন, নুর মোহাম্মদ মিয়া, হাসান মেহমুদ, মো. আইনুল হক মামুনুর রশীদ, আব্দুর রব আকন্দ, মো. সাইদুর রহমান সিদ্দিকী, অসীম ঘোষ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সিকদার জসিম উদ্দিন, এমাদুল হক, মেহেদী হাসান, নিয়াজ আকুঞ্জি, মিজানুর রহমান, শেখ মহম্মদ ফয়সাল, সোহেল রানা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া সত্ত্বেও মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত বৈষম্যের শিকার।