অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে ‘আফসোস’ শুনতে চান না জ্যোতিদের কোচ

টি-টোয়েন্টি থেকে নিগার সুলতানা জ্যোতির অধিনায়কের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা এবং সারোয়ার ইমরানের জায়গায় কোচ ডেভিড হেম্পের নতুন যাত্রার শুরু। কিছুটা রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের নারী ক্রিকেট। তার মাঝেই আইসিসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নামছে বাংলাদেশ। 

সেটিকে সামনে রেখেই মাঠের বাইরের সব আলোচনা ছাপিয়ে কোচ হেম্প মূলত জোর দিয়েছেন র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দলের পেস ও বাউন্সের বিপক্ষে মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত রাখার ওপর। নতুন মিশনে হেম্পের লক্ষ্য একটাই, মাঠের লড়াই শেষে খেলোয়াড়দের মনে যেন কোনো দীর্ঘশ্বাস বা আক্ষেপ না থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার বাড়তি গতি ও বাউন্সের সঙ্গে জ্যোতিদের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান কোচ হেম্প বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি, পাশাপাশি যে উইকেটগুলোয় অনুশীলন করেছি, সেগুলোও খুব ভালো ছিল। খেলোয়াড়দের জন্য এটা কিছুটা চ্যালেঞ্জের ছিল, কারণ এখানে গতি ও বাউন্স আমাদের চেনা পরিবেশের চেয়ে বেশি। তবে তারা খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে।’

বিশ্বের এক নম্বর দলের বিপক্ষে নামার আগে প্রতিপক্ষের শক্তিকে স্বীকার করে মাঠে শতভাগ ইতিবাচক থাকার তাগিদ দিয়েছেন কোচ। এই মানসিক প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘আমরা যে বিশ্বের সেরা নারী দলের বিপক্ষে খেলছি, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। দুই সংস্করণেই তারা এক নম্বর দল। তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিষয়টা মানসিকভাবে গ্রহণ করা এবং ম্যাচে ইতিবাচক থাকা।’ 

যেই বিষয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন, সেটি হলো ম্যাচ শেষ করে ড্রেসিংরুমে ফিরে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে খেলোয়াড়েরা যেন আফসোস না করেন। সেই দীর্ঘশ্বাসের সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে হেম্প বলেন, ‘আমরা চাই না মেয়েরা এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে বলুক ‘ইশ্‌, আমরা যদি এভাবে খেলতাম!’ ম্যাচের দিকে মনোযোগ ও ভাবনার জায়গাগুলোয় আমাদের পুরোপুরি ইতিবাচক থাকতে হবে। তবেই আমরা সামনে এগোতে পারব।’

আগামীকাল ব্রিসবেনে বাংলাদেশ সময় ৯টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। একই মাঠে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ যথাক্রমে ১১ ও ১৪ অক্টোবর।