ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তির পরিণতির দায় সরকারের: অধিকার কমিটি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের ভয়াবহ পরিণামের জন্য সরকার দায়ী থাকার কথা বলেছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অধিকার কমিটি এ কথা বলে।

এই দিন বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে (সাবেক বিডা) ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের কনসেশন চুক্তি সই হয়। এসময় সেখানে সিপিবি, বাসদসহ বিভিন্ন বামপন্থী দল-সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিপেটা করা হলে বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায় কমিটি।

বিবৃতে বলা হয়, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দেশি অপারেটরদের পরিচালনায় লাভজনক অবস্থায় থাকার পরও বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরও দ্রুতগতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিলে দেশের বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর আন্দোলনের চাপে সরকার পিছিয়ে এসেছিল।   পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা বিএনপি সরকার সব বাধা উপেক্ষা করে আজ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আজ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মিলনায়তনের বাইরে বিক্ষোভে পুলিশের হামলায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য সীমা দত্ত, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, নেতা মনিরুজ্জামান মিলন, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনীষা চক্রবর্তী, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আসিফ জামানসহ অনেকে আহত হন।

সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর চাপের সরকার নতি স্বীকার করেছে জানিয়ে বিবৃতে উল্লেখ করা হয়,  মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা না করা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা, ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস কেনা, বন্দরের শ্রমিকদের দাবি ও দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির প্রশ্নকে অগ্রাহ্য করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর - মানুষের মনে এই প্রশ্নের উদ্রেক করেছে যে সাম্রাজ্যবাদী এসকল দেশের কাছে মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কিনা।

ক্ষমতায় যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে দেশের স্বার্থ অগ্রাহ্য করে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর স্বার্থ নগ্নভাবে রক্ষা করার এমন নজির আমরা ইতিপূর্বে দেখিনি। যে সরকারই ক্ষমতায় যাক না কেন, সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক একইরকম। আজ বিরোধী দলে যারা আছেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন- তারাও এই প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে একমত। আজ গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটসহ বামপন্থী দলগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সংসদে কিংবা সংসদের বাইরে তথাকথিত এই বড় দলগুলোর এ বিষয়ে কোন অবস্থান নেই।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি মনে করে, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর (যা বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে) বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো বা ‘কৌশলগত সম্পদ’ মুনাফালোভী গোষ্ঠী বা বিদেশি স্বার্থের কাছে হস্তান্তর করা দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হলো। ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ পরিণতির জন্য এই সরকার দায়ী থাকবে বলে  এতে উল্লেখ করা হয়।