ফ্রোজেন শোল্ডারে অবহেলা নয়

হাত ওপরে তুলতে পারছেন না, জামাকাপড় পরতে বা পিঠের দিকে হাত নিতে গেলে কাঁধে তীব্র ব্যথা হচ্ছে? রাতে ব্যথার চোটে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে? এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অনেকেই মনে করেন ঠা-া লেগেছে বা সাধারণ মাংসপেশির টান।

কিন্তু এটি হতে পারে ‘অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস’, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ (Frozen Shoulder) নামে পরিচিত।

এই রোগে কাঁধের জয়েন্ট ক্যাপসুল শক্ত ও সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে হাত নড়াচড়া করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।

কাদের ঝুঁকি বেশি

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা, বুক বা কাঁধের আঘাত, কিংবা স্ট্রোকের পর দীর্ঘদিন হাত অব্যবহৃত থাকলেও ফ্রোজেন শোল্ডার হতে পারে। অনেক রোগী ব্যথার ভয়ে হাত নড়াচড়া একেবারেই বন্ধ করে দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাত যত কম নাড়ানো হবে, জয়েন্ট তত বেশি জমে যাবে।

যা করবেন

ফ্রোজেন শোল্ডারের প্রধানত তিনটি পর্যায় রয়েছে প্রথম ধাপে তীব্র ব্যথা ও শক্ত হওয়া (Freezing Phase), দ্বিতীয় ধাপে ব্যথা কিছুটা কমলেও হাত জমে থাকা  (Frozen Phase) এবং শেষ ধাপে ধীরে ধীরে হাত সচল হওয়া (Thawing Phase)। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সেরে উঠতে ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে, যা রোগীর দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

পেইন মেডিসিনে এই দীর্ঘ যন্ত্রণা দূর করার আধুনিক ও দ্রুত সমাধান রয়েছে। আলট্রাসনোগ্রাম গাইডেড ‘হাইড্রোডাইলেশন’ (Hydrodilatation) এবং ইন্টারভেনশনাল ব্লক ইনজেকশনের মাধ্যমে কাঁধের শক্ত হয়ে যাওয়া ক্যাপসুলকে প্রসারিত করা হয়। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যথামুক্ত উপায়ে কাঁধের স্বাভাবিক নড়াচড়া ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কাজেই কাঁধের ব্যথাকে অবহেলা করে হাত স্থির করে রাখবেন না। সঠিক সময়ে পেইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা ও সঠিক রিহ্যাবিলিটেশন ব্যায়ামের মাধ্যমে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন।