প্রাণের রহস্য সন্ধান

পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি ও বিকাশ, বিজ্ঞানের রহস্যময় অধ্যায়। প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল মেঘ থেকে, সৌরজগতের সৃষ্টি। পৃথিবী প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর আগে তৈরি হয়েছে। এই পৃথিবী সৃষ্টির পর কীভাবে জড় পদার্থ থেকে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া জীবাশ্ম অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের সন্ধান মেলে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে, যা একটি সায়ানো-ব্যাকটেরিয়া। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর মহাসাগর প্রাণ বিকাশের মূল কেন্দ্র। গ্রহাণুর আঘাতের ফলে সৃষ্ট ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগে অধিকাংশ প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্ত হলেও, টিকে যাওয়া ৫% থেকে বিকশিত হয় হাজার প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সমুদ্র তলদেশের গভীরে ক্ষারীয় ঝর্ণা বা হাইড্রোথার্মাল ভেন্টের মাইক্রো-চেম্বারে প্রথম বিপাকীয় নেটওয়ার্ক ও কোষীয় ব্যবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। কোনো গবেষণায় ধারণা করা হয়, মহাকাশ থেকে ধূমকেতু বা উল্কাপি-ের মাধ্যমে জীবনের বীজ বা প্রয়োজনীয় জৈব অণু পৃথিবীতে এসে পৌঁছে। প্রাণের রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য তরল অবস্থায় পানি জরুরি। পৃথিবীর মহাসাগরের বুকে প্রাণের বিকাশ হয়েছিল ক্ষুদ্র এককোষী ব্যাকটেরিয়া বা তারও ছোট আকারের অন্য কিছু থেকে। বিজ্ঞানীরা অবশ্য ৩৭০ কোটি বছর আগের জটিল প্রাণের সবচেয়ে পুরনো জীবাশ্মের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। পরীক্ষাগারে  বিজ্ঞানীরা প্রাচীন পৃথিবীর পরিবেশ কৃত্রিমভাবে তৈরি করে, প্রাণহীন রাসায়নিক উপাদান থেকে প্রাণ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন, এখন পর্যন্ত সফল হননি।