চায়ের স্টলে ডাকসেবা

চায়ের স্টলই যেন ডাকঘর! সেখানে বসেই চিঠিপত্র বাছাই, ঠিকানা খোঁজা আর গ্রাহককে ডাকসেবা দিচ্ছেন পোস্টমাস্টার। স্থায়ী কার্যালয় না থাকায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ছয়টি শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম চলছে এভাবেই। কখনো মুদির দোকানে, কখনো খোলা আকাশের নিচেও বসতে হচ্ছে ডাককর্মীদের। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মী ও গ্রাহকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার উচাখিলা বাজারের সবজি মহালের একটি চায়ের স্টলে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। সেখানে একটি শপিংব্যাগ থেকে একগাদা চিঠিপত্র বের করে গ্রাহকের ঠিকানা দেখছিলেন উচাখিলা শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার শহিদুল হক (৪৪)।

পোস্টমাস্টার শহিদুল হক বলেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরে চায়ের স্টলে, মুদি দোকান কিংবা খোলা আকাশের নিচে আমি অফিস করছি। ২০২২ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে থাকা উচাখিলা শাখা ডাকঘরের অফিসটি উঠিয়ে দেন ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খান সেলিম। এরপর থেকেই এভাবে ভ্রাম্যমাণ অফিস চালিয়ে যাচ্ছি। শুধু আমিই নই, আমার মতো আরও অনেকেই এভাবে অফিস করেছেন। আমাদের দাবি, একটি স্থায়ী অফিস স্থাপন করে উচাখিলা শাখা ডাকঘরসহ অন্যান্য ডাকঘরের  কার্যক্রম চালু করা হোক।’

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে এখনও লেখা রয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, উচাখিলা শাখা ডাকঘর (ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ)’। তবে কক্ষটি তালাবদ্ধ। ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পোস্টমাস্টারের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ওই কক্ষে অফিস করছিলেন শহিদুল হক। তবে দুই বছর ধরে কক্ষটি আনসার সদস্যরা ব্যবহার করছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান দেশের বাইরে থাকায় এ সম্পর্কে জানতে চাইলে উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবু সাঈদ বলেন, ‘আগে এখানে পোস্ট অফিস ছিল, এখন আর নেই। ইউনিয়ন পরিষদে পোস্ট অফিসের কোনো কক্ষ বরাদ্দ নেই। এর চেয়ে বেশি আমি আর কিছু বলতে পারছি না।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে উপজেলায় মোট ১৪টি শাখা ডাকঘর রয়েছে। উপজেলা পোস্ট অফিসসহ ঈশ্বরগঞ্জে মোট পোস্ট অফিসের সংখ্যা ১৫টি। বিধি অনুযায়ী, প্রতিটি শাখা ডাকঘরে একজন পোস্টমাস্টার, একজন বিলিকারী ও একজন রানার থাকার কথা। কিন্তু বিভিন্ন শাখা ডাকঘরে পদ শূন্য থাকায় কোথাও কোথাও একজন রানারকেই পোস্টমাস্টারের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। উপজেলার নাহরা শাখা ডাকঘরে পোস্টমাস্টার ও পিয়নের পদ শূন্য রয়েছে। চরজিথর শাখা ডাকঘরেও পোস্টমাস্টার নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার ১৪টি শাখা ডাকঘরের মধ্যে নওশতী বাজার, ভোলার আলগী, বড়জোড়া, নাহরা, বড়হিত এবং সৈয়দ ভাকুরী মল্লিকবাড়ীসহ সাতটি শাখা ডাকঘরে স্থায়ী অফিস রয়েছে। জাটিয়া শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম চলে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে। অন্যদিকে চরজিথর, কুল্লাপাড়া, উচাখিলা, গাফুরিয়া, তারুন্দিয়া ও কোনাপাড়াসহ ছয়টি শাখা ডাকঘরের কোনো অফিস নেই। এসব পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০০টি চিঠিপত্র বিলি করা হয়। 

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পোস্টমাস্টার আক্তারুজ্জামান মিজান বলেন, ‘শাখা ডাকঘর কিংবা পোস্ট অফিসগুলোর অধিকাংশেরই স্থায়ী অফিস নেই। কেউ বাড়িতে, কেউ দোকানে, আবার কেউ ভাড়া নিয়ে অফিস চালাচ্ছেন। বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’